আঁচল ধরে টানাটানির বিতর্ক! বিজেপি সভাপতির মন্তব্যে সরব রাহুল-প্রিয়াঙ্কা
রাজনীতির ময়দানে ভাষা ও শিষ্টাচারের সীমা লঙ্ঘন করার অভিযোগ উঠল গুজরাট বিজেপি সভাপতি জগদীশ বিশ্বকর্মার বিরুদ্ধে। কংগ্রেস সাংসদ গেন্নিবেন থাকোরকে উদ্দেশ্য করে তাঁর একটি বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতি এখন উত্তাল। এই ঘটনাকে ‘নারী-বিদ্বেষী’ ও ‘মনুবাদী মানসিকতা’র বহিঃপ্রকাশ বলে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী।
বিতর্কের সূত্রপাত ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য
সম্প্রতি একটি জনসভায় ভাষণ দেওয়ার সময় জগদীশ বিশ্বকর্মা কংগ্রেস সাংসদ গেন্নিবেন থাকোরকে আক্রমণ করতে গিয়ে কুরুচিপূর্ণ রূপক ব্যবহার করেন। তিনি বলেন, তাঁরা গেন্নিবেনের “শাড়ির আঁচলে বাঁধা পঞ্চায়েত আসনগুলো টেনে খুলে নিয়েছেন।” একজন মহিলা জনপ্রতিনিধির পোশাক ও সম্মান নিয়ে এমন কুরুচিকর মন্তব্যের পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে কংগ্রেস শিবির। ঘটনার প্রতিবাদে রাহুল গান্ধী সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, প্রধানমন্ত্রী নারী-পূজার কথা বললেও তাঁর দলের নেতাদের এই আচরণে আসল মুখোশ খুলে গিয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “নারীরা অপমান ভোলে না, গুজরাট ও ভারতের নারীরাই এর যোগ্য জবাব দেবে।”
কংগ্রেসের তোপ ও বিজেপির অবস্থান
এই ইস্যুতে ময়দানে নেমেছেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদ্রও। তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি সরকার একদিকে সংসদে নারীদের অপমান করে, অন্যদিকে তাদের নেতারা বাইরে অশালীন মন্তব্য করেন। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, জগদীশ বিশ্বকর্মাকে অবিলম্বে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে। দলটির মুখপাত্ররা বিদ্রুপ করে বলেন, যে নেতা যত বেশি কুরুচিপূর্ণ কথা বলেন, বিজেপিতে তাঁর পদোন্নতি তত দ্রুত হয়। খোদ গেন্নিবেন থাকোর এই ঘটনায় মর্মাহত হয়ে জানিয়েছেন, একজন রাজনৈতিক নেতার থেকে এমন শব্দ আশা করা যায় না। সব মিলিয়ে, নারী-সম্মান বনাম বিজেপির এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক লড়াই এখন তুঙ্গে।