নিজেদের হাল ফেরানোই চ্যালেঞ্জ লালের, ৪ মে কি ‘অলৌকিক’ প্রত্যাবর্তন ঘটবে বামেদের?

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিধানসভায় ‘শূন্য’ হয়ে যাওয়ার পর, ২০২৬-এর এই নির্বাচন বাংলার বামপন্থীদের কাছে কেবল রাজনৈতিক লড়াই নয়, বরং অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। আগামীকাল, ৪ মে ফলাফল ঘোষণার দিন স্পষ্ট হয়ে যাবে মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ের মতো তরুণ মুখদের সামনে রেখে বামেদের ‘নতুন মুখ, নতুন কৌশল’ স্লোগান ভোটারদের মনে কতটা দাগ কাটতে পারল।

অস্তিত্ব রক্ষার কঠিন পরীক্ষা

গত নির্বাচনে কার্যত নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার পর এবার সিপিআই(এম) এবং বাম শরিক দলগুলো ছাত্র-যুবদের প্রাধান্য দিয়ে লড়াইয়ে নেমেছিল। ‘কর্মসংস্থান ও ন্যায়বিচার’-কে মূল ইস্যু করে তৃণমূল ও বিজেপির দ্বিমেরু রাজনীতির বাইরে তৃতীয় বিকল্প হিসেবে নিজেদের তুলে ধরার চেষ্টা করেছে লাল শিবির। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের ফলাফলে যদি বামেদের ভোট শতাংশ উল্লেখযোগ্যভাবে না বাড়ে, তবে দলের কর্মীদের মনোবল ধরে রাখা এবং সংগঠনের ভাঙন রোধ করা কঠিন হয়ে পড়বে।

নির্ণায়ক ফ্যাক্টর: বিজেপির দিকে যাওয়া ভোট কি ফিরবে?

বামেদের ভবিষ্যতের জন্য সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো— গত নির্বাচনে তৃণমূলকে হঠাতে যে বামপন্থী ভোট বিজেপির বাক্সে গিয়েছিল, তা কি এবার কাস্তে-হাতুড়ি চিহ্নে ফিরেছে? যদি সেই ভোট পুনরুদ্ধার না হয়, তবে দ্বিমেরু রাজনীতির লড়াইয়ে বামেরা আবারও প্রান্তিক শক্তিতে পরিণত হবে। সাধারণ মানুষ ধর্ম ও পরিচয়ের রাজনীতির চেয়ে অর্থনৈতিক সংকট ও দুর্নীতির মতো বিষয়গুলোকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে কি না, তার ওপরই নির্ভর করছে অলৌকিক প্রত্যাবর্তনের আশা।

‘করো অথবা মরো’ পরিস্থিতি

সল্টলেক থেকে শিলিগুড়ি—রাজ্যের কোণায় কোণায় বাম সমর্থকরা এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। ৪ মে-র ফলাফল যদি বামেদের অনুকূলে না যায়, তবে বাংলার রাজনীতি পাকাপাকিভাবে তৃণমূল ও বিজেপির দ্বন্দ্বে সীমাবদ্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রবীণ নেতারা কোনো এক ‘অলৌকিক’ উত্থানের আশায় প্রহর গুনছেন, যার উত্তর এখন কেবল ইভিএম-এর গর্ভেই বন্দি।

আগামীকালকের সূর্যোদয় বাংলায় লাল ঝান্ডার পুনরুজ্জীবন ঘটাবে নাকি সেই রঙকে আরও ম্লান করে দেবে, তা জানতে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *