‘ইরান এখন বিধ্বস্ত, নেতা কে তাও জানে না’: প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে ফের হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
আমেরিকা ও ইরান যুদ্ধের দুই মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পর পরিস্থিতি যখন স্থিতিশীল হওয়ার আশা করা হচ্ছিল, ঠিক তখনই ফের যুদ্ধের ডঙ্কা বাজালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া একটি শান্তি প্রস্তাব কার্যত নস্যাৎ করে দিয়ে ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে দাঁড়িয়ে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ইরান বর্তমানে অত্যন্ত দুর্বল এবং প্রয়োজনে পুনরায় বড়সড় হামলা চালাতে পিছপা হবে না আমেরিকা।
ইরানের নতুন প্রস্তাবের তিন শর্ত
শান্তি বজায় রাখতে ইরানের পক্ষ থেকে একটি ত্রিমুখী প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল:
১. যুদ্ধ বিরতি: আমেরিকা ও ইজরায়েলকে এই মর্মে নিশ্চয়তা দিতে হবে যে তারা আর হামলা চালাবে না।
২. অবরোধ প্রত্যাহার: ইরান বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ খুলে দেবে, বিনিময়ে আমেরিকাকে সমস্ত অর্থনৈতিক অবরোধ তুলে নিতে হবে।
৩. পরমাণু ইস্যু: পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে এখনই কোনো আলোচনা করা যাবে না। ইরান চায় ভবিষ্যতে শান্তিপূর্ণ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার তাদের দেওয়া হোক।
ট্রাম্পের মেজাজ ও কটাক্ষ
ইরানের এই প্রস্তাব ট্রাম্পের মন জয় করতে পারেনি। সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি ইরানের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করে বলেন:
“ইরান এখন সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত। ওরা জানে না ওদের নেতা কে, খামেনেই-ও নেই। ওরা একটা চুক্তি করতে চায় ঠিকই, কিন্তু তাদের পাঠানো এই প্রস্তাবে আমি সন্তুষ্ট নই।”
আলোচনা নাকি সংঘাত?
যদিও হামলার হুমকি দিয়েছেন, তবুও ট্রাম্প আলোচনার একটি ক্ষীণ পথ খোলা রেখেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ইরানের প্রস্তাবটি তিনি আরও একবার পর্যালোচনা বা রিভিউ করবেন। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই কঠোর অবস্থান থেকে পরিষ্কার যে, ইরানের পরমাণু অস্ত্র ত্যাগের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত প্রতিশ্রুতি না পাওয়া পর্যন্ত আমেরিকা পিছু হটবে না।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে একাধিক দফার শান্তি বৈঠকের পরেও কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে দুই দেশ। ট্রাম্পের এই সাম্প্রতিক বয়ান মধ্যপ্রাচ্যে পুনরায় উত্তেজনার পারদ চড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞ মহলের আশঙ্কা, আমেরিকার প্রত্যাশা পূরণ না হলে হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে ফের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ শুরু হতে পারে।