ভোটগণনার ঠিক আগের রাতে বিধাননগরে স্ট্রংরুমের বাইরে তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষ! উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে লাঠিচার্জ পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর

রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল বিধাননগর। স্ট্রংরুমের বাইরে তাঁবু খাটানো এবং দলীয় পতাকা লাগানোকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে তীব্র সংঘাতের সৃষ্টি হয়। শনিবার গভীর রাতের এই ঘটনায় দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি এবং স্লোগান-পাল্টা স্লোগানে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে গেলে লাঠিচার্জ করতে বাধ্য হয় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। রবিবার সকালের চূড়ান্ত উত্তেজনার আবহে এই ঘটনা স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক স্নায়ুর লড়াইকে এক নতুন মাত্রা দিয়েছে।

তাঁবু ও পতাকা বিতর্কে তুলকালাম

ঘটনার সূত্রপাত বিধাননগরের স্ট্রংরুম চত্বরে দলীয় ক্যাম্প অফিস বা তাঁবু স্থাপনকে কেন্দ্র করে। বিজেপির অভিযোগ, তাদের জন্য নির্ধারিত তাঁবুতে জোরপূর্বক নিজেদের দলীয় পতাকা লাগিয়ে দিয়েছে তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকেরা। অন্যদিকে, তৃণমূল শিবিরের দাবি, স্ট্রংরুমের বাইরে স্থানের বণ্টন নিয়ে কোনো আলোচনা ছাড়াই বিজেপি একতরফাভাবে জায়গা দখল করেছে। এই বাগ্‌বিতণ্ডা মুহূর্তের মধ্যে সংঘর্ষে রূপ নেয়। দুই দলের কয়েকশ কর্মী-সমর্থক ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিধাননগর পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা মাইকিং শুরু করেন এবং জমায়েত হটাতে তৎপর হন।

বিস্ফোরক অভিযোগ ও পাল্টা দাবি

উত্তেজনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন রাজারহাট নিউটাউনের তৃণমূল প্রার্থী তাপস চট্টোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেন, শান্তি বজায় রাখার স্বার্থে তিনি মধ্যস্থতার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু কেন্দ্রীয় বাহিনী তৃণমূল কর্মীদের ওপর লাঠিচার্জ করেছে। তাপস চট্টোপাধ্যায়ের মতে, “তিনটি বিধানসভা কেন্দ্রের ইভিএম যেখানে রয়েছে, সেখানে সব তাঁবু একটি দল দখল করবে তা হতে পারে না।” পাল্টা জবাবে বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, তৃণমূল পরাজয় নিশ্চিত জেনে এখন ‘ডুবন্ত মানুষের খড়কুটো ধরার মতো’ আচরণ করছে এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অশান্তি ছড়াচ্ছে।

স্ট্রংরুম ঘিরে দেশজুড়ে স্নায়ুর লড়াই

বিধাননগরের এই ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন চিত্র নয়। দ্বিতীয় দফার ভোট মেটার পর থেকেই কলকাতার ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্র এবং সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের স্ট্রংরুম ঘিরে শাসক-বিরোধী সংঘাত চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইতিপূর্বে বারাসতেও সিসিটিভি মনিটর বন্ধ হওয়া নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়েছিল। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ইভিএমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে স্ট্রংরুমের বাইরে রাত জেগে পাহারা দিতে দেখা গেছে। অন্যদিকে, কাউন্টিং এজেন্টদের সুরক্ষা এবং কারচুপি রুখতে রবিবার সকাল থেকে রাজ্যের প্রতিটি স্ট্রংরুমের বাইরে অবস্থানে বসার ডাক দিয়েছে বিজেপির মহিলা মোর্চা।

গণনার আগের রাতে এই নজিরবিহীন উত্তেজনা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, সোমবারের ফল প্রকাশ কেবল ইভিএমের লড়াই নয়, বরং রাজপথের দখল নেওয়ার এক কঠিন অগ্নিপরীক্ষায় পরিণত হতে চলেছে। বর্তমানে স্ট্রংরুম চত্বরে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন থাকলেও চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *