আকাশছোঁয়া দামের চাপে উধাও সিলিন্ডার! আউশগ্রাম ও মঙ্গলকোটে কি ফের ফিরছে কাঠ-পাতার যুগ?
রান্নার গ্যাসের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি এবং সিলিন্ডারের তীব্র সংকটে পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রাম ও মঙ্গলকোটের জনজীবনে নাভিশ্বাস উঠেছে। বিশেষ করে প্রান্তিক পরিবারগুলির হেঁশেল চালানো এখন দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। মধ্যবিত্ত থেকে শুরু করে আদিবাসী ও দিনমজুর পরিবারগুলোর ঘরে রান্নার গ্যাসের সংযোগ থাকলেও, অতিরিক্ত দামের কারণে তা ব্যবহারের সাধ্য হারিয়েছেন অনেকেই। ফলে সিলিন্ডার ছেড়ে স্থানীয় মহিলাদের পুনরায় জঙ্গল থেকে কাঠ ও শুকনো পাতা সংগ্রহের পুরনো অভ্যাসে ফিরে যেতে হচ্ছে।
জ্বালানি সংগ্রহে দীর্ঘ লড়াই
এলাকার দুঃস্থ মহিলারা দীর্ঘ সময় বনের গভীরে গিয়ে জ্বালানি জোগাড়ের লড়াই চালাচ্ছেন। রান্নার গ্যাসের সংকটের জেরে গ্রামের পর গ্রাম এখন ফিরে গেছে মাটির উনুন আর ধোঁয়ার যন্ত্রণায়। স্থানীয় পরিবারগুলির অভিযোগ, কেন্দ্র সরকারের ভ্রান্ত নীতির কারণে রান্নার গ্যাসের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গিয়েছে। দীর্ঘক্ষণ জঙ্গল চষে জ্বালানি জোগাড় করতে গিয়ে যেমন শারীরিক কষ্ট বাড়ছে, তেমনি গৃহস্থালির অন্যান্য কাজের সময়ও কমে যাচ্ছে। এই দুর্দশার জন্য সরাসরি বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারকে দায়ী করছেন আউশগ্রাম ও মঙ্গলকোটের আদিবাসী ও প্রান্তিক বধূরা।
ভোটের ময়দানে ক্ষোভের আঁচ
জ্বালানি সংকটের এই ক্ষোভ এখন আর কেবল হেঁশেলেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং রাজনৈতিক মোড় নিতে শুরু করেছে। আসন্ন দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে এই বঞ্চনার জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয় ভোটাররা। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, উজ্জ্বলা প্রকল্পের সুফল এখন কেবল নামেই টিকে আছে, বাস্তবে খালি সিলিন্ডারগুলো ঘরের কোণে শোভাবর্ধক হিসেবে পড়ে রয়েছে। জীবনযাত্রার এই চরম অনিশ্চয়তা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের অগ্নিমূল্য আসন্ন নির্বাচনে জনমতের ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এক ঝলকে
- রান্নার গ্যাসের অস্বাভাবিক দাম ও সংকটে আউশগ্রাম-মঙ্গলকোটে হাহাকার শুরু হয়েছে।
- সিলিন্ডার ছেড়ে আউশগ্রামের আদিবাসী ও দিনমজুর মহিলারা জঙ্গল থেকে কাঠ-পাতা সংগ্রহ করছেন।
- হেঁশেলের এই দুর্দশার জন্য ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারকে দায়ী করছেন।
- জ্বালানি সংকটের এই ক্ষোভ আসন্ন দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে বড় ইস্যু হতে পারে।