সন্তান লাভের নেশায় স্ত্রীকে তান্ত্রিকের লালসার শিকার বানালেন স্বামী!
উত্তরপ্রদেশে সন্তান না হওয়ায় এক গৃহবধূকে তান্ত্রিকের ডেরায় নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণের ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে খোদ স্বামীর বিরুদ্ধে। বিয়ের দেড় বছর পার হলেও কোনো সন্তান না হওয়ায় ওই নারীর ওপর ক্রমাগত মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালাত শ্বশুরবাড়ির লোকজন। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসার নাম করে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় স্থানীয় এক তান্ত্রিকের কাছে, যেখানে তাকে মাদকদ্রব্য খাইয়ে অচৈতন্য করে ফেলে রাখা হয়।
অন্ধবিশ্বাস ও পাশবিকতার চরম সীমা
ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, আসাদ নগর এলাকার তান্ত্রিক গিরধারী ওই নারীকে বিধান দেন যে, সন্তান পেতে হলে তাকে অন্য পুরুষের সাথে শারীরিক সম্পর্ক করতে হবে। এরপর তাকে নেশাজাতীয় পানীয় খাইয়ে অচেতন করে ফেলা হলে দুইজন অপরিচিত ব্যক্তি তাকে ধর্ষণ করে। এই জঘন্য কর্মকাণ্ডে খোদ স্বামীর মৌন সম্মতি ও সহযোগিতা ছিল বলে পুলিশের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন ওই নারী।
আইনি ব্যবস্থা ও সামাজিক অবক্ষয়
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর নির্যাতিতা তার শাশুড়ি ও ননদকে বিষয়টি জানালে তারা তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। পরবর্তীতে বাবার বাড়ির সহায়তায় তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ অভিযুক্ত স্বামী, তান্ত্রিক এবং আরও চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। এই ঘটনাটি আধুনিক যুগেও অন্ধবিশ্বাসের করাল গ্রাস এবং নারীর প্রতি চরম অমানবিক আচরণের একটি নিষ্ঠুর দৃষ্টান্ত হিসেবে সামনে এসেছে।
এক ঝলকে
- সন্তান না হওয়ায় উত্তরপ্রদেশে এক গৃহবধূকে তান্ত্রিকের কাছে নিয়ে যান স্বামী।
- চিকিৎসার নামে মাদক খাইয়ে অচেতন করে ওই নারীকে গণধর্ষণ করা হয়।
- ঘটনায় স্বামী, তান্ত্রিকসহ মোট ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।
- অন্ধবিশ্বাস ও পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়ে বর্তমানে পুলিশের দ্বারস্থ ভুক্তভোগী।