প্রধানমন্ত্রীকে ‘সন্ত্রাসবাদী’ সম্বোধন করে তোপের মুখে খাড়গে, ক্ষমা চাওয়ার দাবিতে সরব বিজেপি
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের সাম্প্রতিক একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজনৈতিক মহলে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে লক্ষ্য করে তাঁর কথিত ‘সন্ত্রাসবাদী’ মন্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব এই ঘটনাকে প্রধানমন্ত্রীর পদের অবমাননা এবং দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর ওপর আঘাত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। গেরুয়া শিবিরের পক্ষ থেকে অবিলম্বে কংগ্রেস সভাপতির প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি তোলা হয়েছে।
বিজেপির পাল্টা আক্রমণ
বিজেপির মুখপাত্র সম্বিত পাত্র থেকে শুরু করে কে. অন্নামালাইয়ের মতো নেতারা এই ইস্যুতে কংগ্রেসকে কঠোর ভাষায় বিঁধেছেন। অন্নামালাই মন্তব্য করেছেন যে, খাড়গের মতো একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদের মুখে এমন ভাষা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। অন্যদিকে, সম্বিত পাত্র অভিযোগ তুলেছেন যে একসময় ওসামা বিন লাদেনের মতো সন্ত্রাসবাদীকে ‘জি’ বলে সম্বোধন করা দল আজ দেশের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীকে অপমান করছে। বিজেপির দাবি, এটি কোনও আকস্মিক ঘটনা নয় বরং রাহুল গান্ধীর প্রভাবাধীন কংগ্রেসের পরিকল্পিত মানসিকতারই বহিঃপ্রকাশ।
রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া
এই বিতর্কে যোগ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল এবং শিবরাজ সিং চৌহানের মতো হেভিওয়েট নেতারাও। তাঁদের মতে, বিভিন্ন ইস্যুতে চাপে পড়েই কংগ্রেস নেতারা রাজনৈতিক সৌজন্যবোধ হারিয়ে ফেলছেন। খাড়গে অবশ্য নিজের মন্তব্যের স্বপক্ষে ব্যাখ্যা দিয়েছেন, কিন্তু তাতে বরফ গলেনি। বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬-এর নির্বাচনের আবহে এই ধরণের বাগযুদ্ধ ভোটারদের মেরুকরণে এবং রাজনৈতিক মেরুদণ্ড শক্তিশালী করতে উভয় পক্ষই হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।
এক ঝলকে
- প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ‘সন্ত্রাসবাদী’ বলার অভিযোগে বিতর্কে মল্লিকার্জুন খাড়গে।
- সম্বিত পাত্র ও কে. অন্নামালাই সহ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের তীব্র নিন্দা ও ক্ষমা চাওয়ার দাবি।
- ওসামা বিন লাদেন প্রসঙ্গ টেনে কংগ্রেসের নীতি ও মানসিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলল বিজেপি।
- খাড়গের ব্যাখ্যা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রীর পদমর্যাদা খাটো করার অভিযোগে অনড় গেরুয়া শিবির।