মোদীই মমতা সরকারের সেরা ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর, ঝাড়গ্রামে দাঁড়িয়ে কেন এমন দাবি করলেন অভিষেক
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পারদ যখন তুঙ্গে, তখন ঝাড়গ্রামের মাটি থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নজিরবিহীন কটাক্ষ করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ঝাড়গ্রামে প্রধানমন্ত্রীর ঝালমুড়ি খাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের সাফল্যের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীই। তাঁর মতে, ঝাড়গ্রামের মতো একসময়ের উত্তপ্ত জনপদে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্ভয়ে ঝালমুড়ি খাওয়া প্রমাণ করে যে, এই রাজ্যে গত ১৫ বছরে আইনশৃঙ্খলার অভূতপূর্ব উন্নতি হয়েছে।
উন্নয়ন ও রাজনৈতিক সংঘাত
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর বক্তব্যে ২০১১ সালের আগের বাম জমানার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা টানেন। তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে সন্ধ্যার পর যেখানে মানুষ ঘর থেকে বেরোতে ভয় পেতেন, সেখানে আজ প্রধানমন্ত্রী নির্বিঘ্নে রাস্তার খাবার খাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই পদক্ষেপকে তৃণমূলের সুশাসনের স্বীকৃতি হিসেবে তুলে ধরে তিনি বলেন, গুজরাট বা মধ্যপ্রদেশের মতো বিজেপি শাসিত রাজ্যে মোদীকে এভাবে সাধারণ মানুষের মাঝে মিশে যেতে দেখা যায় না। তবে এই সৌজন্যের আড়ালে ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের হেলিকপ্টার আটকে রাখা নিয়ে সরব হয়ে তিনি বিষয়টিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবেও চিহ্নিত করেছেন।
রাজনৈতিক প্রভাব ও পাল্টা চাল
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া প্রধানমন্ত্রীর ঝালমুড়ি খাওয়ার ভিডিওটিকে হাতিয়ার করে পাল্টা কৌশল নিয়েছে তৃণমূল। প্রধানমন্ত্রী যখন এই ভিডিওর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে চাইছেন, তখন অভিষেক তাকেই ‘উন্নয়নের প্রমাণ’ হিসেবে ব্যবহার করে বিজেপির আইনশৃঙ্খলার অভাব সংক্রান্ত অভিযোগকে কার্যত ভোঁতা করে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এই বাকযুদ্ধ নির্বাচনের আগে জঙ্গলমহলসহ গোটা রাজ্যের ভোটারদের প্রভাবিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
এক ঝলকে
- ঝাড়গ্রামে প্রধানমন্ত্রীর ঝালমুড়ি খাওয়াকে মমতা সরকারের সুশাসনের প্রমাণ হিসেবে দাবি করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
- বিরোধীদের আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত অভিযোগের পাল্টা জবাব দিয়ে মোদীকে সরকারের ‘ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর’ আখ্যা।
- ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনকে আটকে রেখে প্রধানমন্ত্রী রাজনীতি করছেন বলে অভিযোগ।
- ২০১১ সালের আগের জঙ্গলমহলের ভয়ের পরিবেশের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনামূলক বিশ্লেষণ।