৪০ বছরের অভিজ্ঞ আয়ুর্বেদাচার্যের পরামর্শ: শরীরের চাকা বা পিণ্ড নিয়ে চিন্তিত? ম্যাজিকের মতো কাজ করবে হাতের কাছের এই শাক
শীতকালীন সস্তা ও সহজলভ্য সবজি বাথুয়া যে কেবল স্বাদের জন্যই নয়, বরং কঠিন কিছু রোগের যম হতে পারে, তা নিয়ে এখন চিকিৎসকদের মাঝেও বিস্ময় তৈরি হয়েছে। আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞরা দাবি করছেন, শরীরে জমে থাকা ৩০ মিলিমিটারের পাথর বা বছরের পর বছর ধরে বয়ে বেড়ানো মাংসের চাকা বা পিণ্ড নির্মূল করতে এই দেশীয় সবজিটি অত্যন্ত কার্যকর। বিশেষ করে আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থার চড়া ব্যয়ের বিপরীতে আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে বাথুয়াকে একটি শক্তিশালী প্রাকৃতিক বিকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পুষ্টিগুণ ও বিশেষ কার্যকারিতা
বিগত চার দশক ধরে আয়ুর্বেদ চর্চায় যুক্ত বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, বাথুয়া মূলত ভিটামিন এ, সি, কে এবং আয়রন, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের খনি। এতে থাকা উচ্চমাত্রার ফাইবার এবং প্রোটিন শরীরের ভেতরে হওয়া অস্বাভাবিক পিণ্ড বা চাকা গলাতে সাহায্য করে। শরীরের যেকোনো অংশে পিণ্ড দেখা দিলে তাকে অবহেলা করা বিপজ্জনক হতে পারে, আর এই ঝুঁকি কমাতেই বাথুয়া পাতার ঔষধি গুণকে কাজে লাগানোর পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।
কিডনি পাথর ও হজমে ম্যাজিক
কিডনি পাথরের সমস্যায় বাথুয়ার জল এক অনন্য দাওয়াই হিসেবে প্রমাণিত। বাথুয়া পাতা ফুটিয়ে সেই জল ছেঁকে গুড়ের সাথে মিশিয়ে নিয়মিত সেবন করলে পাথর শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। এছাড়া হজমশক্তি বৃদ্ধি, কোষ্ঠকাঠিন্য ও অ্যাসিডিটি দূর করতে সেদ্ধ বাথুয়ার জলের সাথে সামান্য লবণ মিশিয়ে পান করা অত্যন্ত কার্যকর। রক্ত পরিশোধন এবং হাড়ের মজবুতিতেও এই সবজিটি সমান পারদর্শী। সহজলভ্য এই সবজিটি শীতকালীন খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করলে সাধারণ মানুষ স্বল্প ব্যয়ে জটিল শারীরিক সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন।
এক ঝলকে
- বাথুয়া শাক শরীরের যেকোনো অংশের পিণ্ড বা মাংসের চাকা কমাতে সাহায্য করে।
- এটি ফুটিয়ে গুড়ের সাথে মিশিয়ে খেলে কিডনি পাথর শরীর থেকে নির্গত হয়।
- হজম ও ত্বকের সমস্যা সমাধানে এবং রক্ত পরিশোধনে এটি প্রাকৃতিক ক্লিনজার হিসেবে কাজ করে।
- ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ হওয়ায় বাথুয়া হাড়কে শক্তিশালী করতে বিশেষ ভূমিকা রাখে।