১১ বছরের সমীক্ষা: ভারতের গালিগালাজের মানচিত্রে বদল, ৩০% মহিলারাও এখন অভ্যস্ত!
ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের কথোপকথনে গালি ব্যবহারের হার নিয়ে সম্প্রতি ‘গালি বন্ধ ঘর অভিযান’ একটি চাঞ্চল্যকর সমীক্ষা প্রকাশ করেছে। ২০১৪ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ১১ বছর ধরে পরিচালিত এই সমীক্ষায় উঠে এসেছে যে, দেশটির ৮০ শতাংশ দিল্লি নিবাসী দৈনন্দিন কথাবার্তায় গালি ব্যবহার করেন। শিক্ষক, চিকিৎসক, শিক্ষার্থী ও পুলিশসহ প্রায় ৭০ হাজার মানুষের ওপর চালানো এই গবেষণায় দেখা গেছে, গালি দেওয়া এখন কেবল রাগের বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং অনেকের কাছে এটি সামাজিক অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।
আঞ্চলিক প্রবণতা ও কারণ
তালিকায় দিল্লির পরেই অবস্থান করছে হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ ও পাঞ্জাব। সমীক্ষক ড. সুনীল জাগলানের মতে, অতিরিক্ত প্রতিযোগিতা, যানজট এবং দ্রুতগতির জীবনযাত্রার কারণে সৃষ্ট মানসিক চাপ দিল্লির মানুষকে খিটখিটে করে তুলছে। অন্যদিকে, পাঞ্জাব ও হরিয়ানায় গালি অনেক সময় বন্ধুত্বের নিছক রসিকতা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তবে উত্তরপ্রদেশ ও বিহারে রাজনৈতিক এবং পারিবারিক বিবাদের জেরে এর ব্যবহার বেশি। তালিকার সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে কাশ্মীর, যেখানে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের কারণে গালির ব্যবহার অত্যন্ত নগণ্য।
পরিবর্তিত সামাজিক আচরণ
গবেষণার সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো নারী ও শিশুদের আচরণগত পরিবর্তন। প্রায় ৩০ শতাংশ নারী অংশগ্রহণকারী নিয়মিত গালি দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন, যা এই প্রবণতাকে লিঙ্গভেদে সর্বজনীন করে তুলছে। শিশুদের ওপর এর প্রভাব আরও ভয়াবহ; পরিবার বা আশপাশে গালি শুনে তারা অজান্তেই একে নিজেদের ভাষার অংশ বানিয়ে নিচ্ছে। ‘সেলফি উইথ ডটার ফাউন্ডেশন’ এই অভ্যাসের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি করতে এবং ঘরে মার্জিত ভাষা ব্যবহারের পরিবেশ নিশ্চিত করতে দেশজুড়ে কাজ করছে।
এক ঝলকে
- দীর্ঘ ১১ বছরের সমীক্ষায় গালি ব্যবহারের তালিকায় শীর্ষ স্থান দখল করেছে ভারতের রাজধানী দিল্লি।
- শিক্ষক ও চিকিৎসকদের মতো পেশাজীবীসহ ৭০ হাজার মানুষের ওপর এই গবেষণা চালানো হয়।
- প্রায় ৩০ শতাংশ নারী স্বীকার করেছেন যে তাঁরা নিয়মিত গালিগালাজ করেন।
- সবচেয়ে কম গালি ব্যবহারের রেকর্ড পাওয়া গেছে কাশ্মীরে, যা ইতিবাচক সাংস্কৃতিক প্রভাবের প্রতিফলন।