প্রপার্টি রেজিস্ট্রিতে বড় মোড়! দলিল থাকলেও দিতে হতে পারে মালিকানার পরীক্ষা; জানুন কোন ১২টি কাগজ বাধ্যতামূলক
এখন থেকে ভারতের মাটিতে কেবল সম্পত্তির রেজিস্ট্রি বা নিবন্ধন থাকলেই কোনো ব্যক্তি নিজেকে সেই সম্পত্তির নিরঙ্কুশ মালিক হিসেবে দাবি করতে পারবেন না। সম্প্রতি এক ঐতিহাসিক রায়ে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, জমি বা স্থাবর সম্পত্তির মালিকানা প্রমাণের জন্য শুধু রেজিস্ট্রেশন যথেষ্ট নয়, বরং এর পাশাপাশি অন্যান্য আইনি নথিপত্র থাকা বাধ্যতামূলক। শীর্ষ আদালতের মতে, রেজিস্ট্রেশন কোনো ব্যক্তির দাবির সপক্ষে প্রমাণ হতে পারে, কিন্তু এটি সম্পত্তির ওপর আইনি নিয়ন্ত্রণ বা দখলের চূড়ান্ত দলিল হিসেবে গণ্য হবে না।
জটিলতা এড়াতে সতর্কতার বার্তা
সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের ফলে এখন থেকে জমি কেনাবেচা বা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে ক্রেতাদের অনেক বেশি সতর্ক হতে হবে। আদালত স্পষ্ট করেছে যে, কেবল রেজিস্ট্রি কাগজের ওপর ভিত্তি করে সম্পত্তির লেনদেন করা যাবে না। যদি কোনো সম্পত্তির কেবল রেজিস্ট্রি থাকে কিন্তু সেখানে অন্য কারো দখল থাকে কিংবা মালিকানা নিয়ে বিতর্ক থাকে, তবে সেই মালিকানাকে যেকোনো সময় আদালতে চ্যালেঞ্জ করা যাবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে আবাসন শিল্প (রিয়েল এস্টেট) এবং সম্পত্তি মালিকদের ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও আইনি প্রভাব
আইনি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই রায়ের ফলে সম্পত্তি সংক্রান্ত জালিয়াতি ও দীর্ঘমেয়াদী মামলা হ্রাস পাবে। এখন থেকে সম্পত্তির সম্পূর্ণ মালিকানা পেতে হলে সেল ডিড (বিক্রয় দলিল), মাদার ডিড (পুরানো মালিকানার ইতিহাস), পজেশন লেটার (দখলপত্র), এনকামব্রেন্স সার্টিফিকেট (ঋণমুক্তির প্রমাণ) এবং মিউটেশন বা খতিয়ানের মতো অন্তত ১২টি গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র যাচাই ও নিজের নামে স্থানান্তর করতে হবে। বিশেষ করে ব্যাংক ঋণ বা উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তির ক্ষেত্রে এই নথিগুলোর গুরুত্ব অপরিসীম।
এক ঝলকে
- জমি বা ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রেশন করলেই এখন থেকে পূর্ণ মালিকানা নিশ্চিত হবে না।
- মালিকানা প্রমাণের জন্য রেজিস্ট্রেশনের পাশাপাশি দখল ও আনুষঙ্গিক ১২টি নথি থাকা জরুরি।
- বিতর্কিত বা অন্যের দখলে থাকা সম্পত্তির রেজিস্ট্রি এখন থেকে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।
- জালিয়াতি রোধে জমি কেনার আগে এখন থেকে মাদার ডিড ও মিউটেশন যাচাই করা বাধ্যতামূলক।