ভোটের লড়াইয়ে সঙ্ঘের নিঃশব্দ সার্জিক্যাল স্ট্রাইক, আড়াইশো কেন্দ্রে ড্রয়িংরুম বৈঠকে বাজিমাত করতে মরিয়া আরএসএস
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণের ঠিক আগে রাজ্যজুড়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)। প্রথাগত রাজনৈতিক প্রচার এড়িয়ে তারা বেছে নিয়েছে ‘ড্রয়িংরুম বৈঠক’ বা ঘরোয়া জনসংযোগের কৌশল। রাজ্যের ২৫০টিরও বেশি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রায় আড়াই লক্ষ মানুষের কাছে পৌঁছাতে ইতিমধ্যেই ছোট ছোট দল গঠন করে কাজ শুরু করেছে কয়েক হাজার স্বয়ংসেবক। ‘লোকমত পরিশোধন’ নামের এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো কোনো প্রকার রাজনৈতিক সংঘাত ছাড়াই ভোটারদের মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন ঘটানো।
গোপন কৌশলে জনমত গঠনের ছক
সঙ্ঘের এই বিশেষ অভিযানে সরাসরি কোনো দলের হয়ে ভোট চাওয়া হচ্ছে না। বরং ঘরোয়া আড্ডার ছলে আর জি কর কাণ্ড থেকে শুরু করে নারী নিরাপত্তা, নিয়োগ দুর্নীতি এবং সারদা কেলেঙ্কারির মতো বিষয়গুলো নিয়ে লিফলেট বিলি করা হচ্ছে। বিশেষ করে হিন্দু ঐক্যের ডাক দিয়ে অনুপ্রবেশ এবং জনতাত্ত্বিক পরিবর্তনের বিষয়টিকে সামনে এনে ভোটারদের সতর্ক করার কৌশল নিয়েছে তারা। পাশাপাশি তৃণমূলের দুর্নীতির খতিয়ান তুলে ধরে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে।
প্রভাব ও সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি
বিগত ১৫ বছরে পশ্চিমবঙ্গে আরএসএসের সাংগঠনিক বিস্তার লক্ষণীয়। ৯০০ থেকে বেড়ে বর্তমানে শাখার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৩০০-তে। এই বিশাল নেটওয়ার্ককে কাজে লাগিয়ে প্রতিটি বুথে তৃণমূলের গতিবিধি ও সম্ভাব্য হিংসার ওপর নজরদারি চালানোর পরিকল্পনাও করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে ডিজিটাল যোগাযোগের মাধ্যমে নিয়মিত আপডেট পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। ধর্মীয় সংগঠন ও আশ্রমগুলোর সঙ্গে সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে ভোটের ময়দানে একটি অদৃশ্য অথচ শক্তিশালী প্রভাব তৈরির লক্ষ্য নিয়েছে সঙ্ঘ।
এক ঝলকে
- রাজ্যের ২৫০টির বেশি বিধানসভা কেন্দ্রে ‘ড্রয়িংরুম বৈঠক’ ও ঘরোয়া জনসংযোগ করছে আরএসএস।
- নারী সুরক্ষা, আর জি কর কাণ্ড, নিয়োগ দুর্নীতি এবং অনুপ্রবেশকে প্রচারের মূল হাতিয়ার করা হয়েছে।
- দিল্লির আদলে ‘লোকমত পরিশোধন’ অভিযানের মাধ্যমে প্রায় আড়াই লক্ষ মানুষের কাছে পৌঁছেছে স্বয়ংসেবকরা।
- গত ১৫ বছরে বাংলায় সঙ্ঘের শাখার সংখ্যা ৯০০ থেকে বেড়ে ৪৩০০-তে পৌঁছেছে।