সুপ্রিম ফয়সালা: কেবল এম.টেক থাকলেই হবে না, সরকারি পদের নিয়ম মেনে অভিজ্ঞতা থাকা মাস্ট
সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে কেবল বড় বড় ডিগ্রি থাকলেই হবে না, নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাজের অভিজ্ঞতা থাকাও এখন বাধ্যতামূলক। সোমবার একটি মামলার প্রেক্ষিতে দেশের সর্বোচ্চ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, নিয়োগের বিজ্ঞাপনে অভিজ্ঞতার শর্ত উল্লেখ থাকলে উচ্চতর শিক্ষাগত যোগ্যতা দিয়ে সেই ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব নয়। বিচারপতি জে কে মাহেশ্বরী এবং বিচারপতি এ এস চন্দুরকরের বেঞ্চ হিমাচল প্রদেশ স্কুল শিক্ষা বোর্ডের এক কম্পিউটার হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের নিয়োগ বাতিল করে এই যুগান্তকারী রায় প্রদান করেন।
যোগ্যতা বনাম অভিজ্ঞতার লড়াই
মামলাটির মূল কারণ ছিল জনৈক এক প্রার্থীর নিয়োগ, যাঁর কাছে ইলেকট্রনিক্স ও কমিউনিকেশনে ‘এম.টেক’ ডিগ্রি থাকলেও নির্ধারিত ৫ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা ছিল না। আবেদন করার সময় ওই প্রার্থীর মাত্র এক বছরের অভিজ্ঞতা ছিল। আদালত পর্যবেক্ষণে জানায়, যদি কোনো পদের জন্য নির্দিষ্ট অভিজ্ঞতার শর্ত থাকে, তবে প্রার্থীর কাছে ডক্টরেট ডিগ্রি থাকলেও তিনি ওই পদের জন্য অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। কারণ, উচ্চ ডিগ্রি থাকলেই কেউ ‘অন্যভাবে যোগ্য’ হয়ে ওঠেন না।
নিয়োগে নিয়মের গুরুত্ব
সুপ্রিম কোর্ট আরও স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, বিশেষায়িত পদের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতার প্রকৃতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কম্পিউটার ম্যানুফ্যাকচারিং ও মেইনটেন্যান্সের মতো কারিগরি কাজের ক্ষেত্রে পুথিগত ডিগ্রির চেয়ে হাতে-কলমে অভিজ্ঞতাকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। আদালতের মতে, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নিয়ম লঙ্ঘন করে করা যেকোনো নিয়োগ আইনত অবৈধ। এই রায়ের ফলে ভবিষ্যতে সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আসবে এবং যোগ্য ও অভিজ্ঞ প্রার্থীরাই অগ্রাধিকার পাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এক ঝলকে
- সরকারি চাকরিতে উচ্চতর ডিগ্রির চেয়েও বিজ্ঞাপনে উল্লিখিত অভিজ্ঞতার শর্তকে অগ্রাধিকার দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
- হিমাচল প্রদেশের এক ইঞ্জিনিয়ারের নিয়োগ বাতিল করে আদালত জানায়, অভিজ্ঞতার অভাব ডিগ্রির মাধ্যমে পূরণ করা যায় না।
- নিয়োগ প্রক্রিয়ার মৌলিক নিয়ম লঙ্ঘন করা আইনত গ্রহণযোগ্য নয় এবং এটি নিয়োগকে বাতিলযোগ্য করে তোলে।
- আদালতের এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে সরকারি নিয়োগের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে থাকবে।