নিজে হাতে দুই মেয়েকে বলি! যমজ সন্তানকে খুনের পর পুলিশকে ফোন বাবার, স্তম্ভিত কানপুর
উত্তরপ্রদেশের কানপুরে এক চরম নৃশংসতার সাক্ষী থাকল দেশবাসী। নিজের ১১ বছর বয়সী যমজ কন্যাসন্তানকে গলা কেটে নির্মমভাবে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে জন্মদাতা পিতার বিরুদ্ধে। পুলিশ অভিযুক্ত শশী রঞ্জন মিশ্রকে গ্রেফতার করেছে। পেশায় প্রাক্তন মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ শশী গত কয়েক মাস ধরে কর্মহীন ছিলেন। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি জানাজানি হয় যখন মা রেশমা সকালে ঘুম থেকে উঠে পাশের ঘরে তাঁর দুই মেয়েকে রক্তাপ্লুত অবস্থায় নিথর পড়ে থাকতে দেখেন। এই ঘটনায় পরিবারের একমাত্র জীবিত সন্তান ৬ বছরের পুত্র এবং মা সম্পূর্ণ মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।
মানসিক অস্থিরতা ও সন্দেহপ্রবণতার জের
তদন্তে জানা গেছে, দীর্ঘদিনের পারিবারিক অশান্তি এবং সন্দেহপ্রবণতা এই হত্যাকাণ্ডের মূল অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁর স্ত্রীর ওপর নজরদারি চালানোর জন্য সারা বাড়িতে সিসিটিভি ক্যামেরা বসিয়েছিলেন। সিলিগুরির বাসিন্দা রেশমার সাথে ২০১৪ সালে বিয়ের পর থেকেই শশীর আচরণে অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করা যেত। সম্প্রতি মায়ের মৃত্যু এবং কর্মহীনতার কারণে তিনি গভীর অবসাদে ভুগছিলেন। পাশাপাশি মাদক ও ঘুমের ওষুধের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি তাঁর বিচারবুদ্ধি লোপ করেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগেও তিনি সন্তানদের নিয়ে আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছিলেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ও পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ
ঘটনার রাতে অভিযুক্ত শশী তাঁর দুই মেয়েকে নিজের ঘরে নিয়ে ঘুমাতে যান। সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী, রাত আড়াইটা নাগাদ তিনি এক শিশুকে শৌচালয়ে নিয়ে যান এবং পুনরায় ঘরে ফিরে আসেন। পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তিতে শশী জানিয়েছেন যে, তিনি প্রথমে খাবারের সাথে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে শিশুদের অচেতন করেন। এরপর শ্বাসরোধ করার পর ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। ভোর সাড়ে চারটে নাগাদ তিনি নিজেই পুলিশকে ফোন করে অপরাধের কথা জানান। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য দেহ দুটি উদ্ধার করে। শিশুদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তা থেকেই তিনি এই কাজ করেছেন বলে দাবি করলেও, পুলিশ আর্থিক অনটন ও মানসিক বিকৃতিকেই মূল কারণ হিসেবে দেখছে।
এক ঝলকে
- কানপুরের কিদওয়াই নগরে ১১ বছরের যমজ কন্যাসন্তানকে হত্যা করেছেন তাদের বাবা।
- অভিযুক্ত শশী রঞ্জন মিশ্র বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন এবং অপরাধ স্বীকার করেছেন।
- কর্মহীনতা, পরকীয়ার সন্দেহ এবং গভীর মানসিক অবসাদ থেকে এই নৃশংসতা চালানো হয়েছে।
- শিশুদের খাবারের সাথে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে অচেতন করে তারপর গলা কাটা হয়।