বদলে যাচ্ছে স্যালারি স্ট্রাকচার! পিএফ ও গ্র্যাচুইটিতে বড় লাভ পেতে চলেছেন কর্মীরা, আপনার সিটিসিতে কী পরিবর্তন আসছে?

সারা দেশে নতুন শ্রম বিধি (New Labour Code) কার্যকর হওয়ার ফলে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বেতন কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। নতুন এই নিয়মের মূল লক্ষ্য হলো কর্মীদের ভবিষ্যৎ সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তবে এই পরিবর্তনের ফলে যেমন দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক লাভের সুযোগ তৈরি হয়েছে, তেমনি মাস শেষে হাতে পাওয়া বেতনের পরিমাণে কিছু রদবদল ঘটার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

নতুন নিয়মের মূল ভিত্তি: ৫০ শতাংশের শর্ত

নতুন শ্রম বিধি অনুযায়ী, একজন কর্মীর মূল বেতন (Basic Salary) তার মোট বেতনের (CTC) অন্তত ৫০ শতাংশ হতে হবে। এর আগে কোম্পানিগুলো কর্মীদের হাতে পাওয়া বেতনের পরিমাণ বেশি দেখাতে মূল বেতন কমিয়ে দিয়ে অন্যান্য ভাতা (HRA, বোনাস, স্পেশাল অ্যালাউন্স) বাড়িয়ে দিত। এখন থেকে মূল বেতন, মহার্ঘ ভাতা ও রিটেইনিং অ্যালাউন্স মিলিয়ে মোট বেতনের অর্ধেক হতে হবে। যদি ভাতাগুলো মোট বেতনের ৫০ শতাংশের বেশি হয়, তবে অতিরিক্ত অংশটুকু স্বয়ংক্রিয়ভাবে মূল বেতনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যাবে।

কাদের ভাগ্য চমকাবে এবং কেন

নতুন এই কাঠামোতে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবেন ক্যারিয়ারের শুরুতে থাকা তরুণ কর্মীরা। টিমলিজ রেগটেকের সিইও ঋষি আগরওয়ালের মতে, তরুণদের পিএফ অ্যাকাউন্টে এখন আগের চেয়ে বেশি অর্থ জমা হবে। যেহেতু পিএফ এবং গ্র্যাচুইটির হিসাব মূল বেতনের ওপর ভিত্তি করে হয়, তাই অবসরের সময় তারা চক্রবৃদ্ধি সুদের (Compounding) সুবিধা পাবেন। দীর্ঘ মেয়াদে এটি একটি বিশাল তহবিল গঠনে সহায়তা করবে। এছাড়া যাদের মূল বেতন বর্তমানে ৫০ শতাংশের অনেক নিচে, তাদের সামাজিক সুরক্ষা তহবিল আগের চেয়ে অনেক শক্তিশালী হবে।

মধ্য ও উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের ওপর প্রভাব

মধ্য ও উচ্চ স্তরের কর্মকর্তাদের জন্য এই নিয়ম কিছুটা মিশ্র প্রভাব ফেলবে। এদের বেতন কাঠামোতে ভাতার অংশ সাধারণত বেশি থাকে। নতুন নিয়মে মূল বেতন বেড়ে যাওয়ায় পিএফ কন্ট্রিবিউশন এবং ট্যাক্স ডিডাকশন বা করের পরিমাণও বাড়বে। ফলে তাদের মাস শেষে হাতে পাওয়া বেতন বা টেক-হোম স্যালারি কিছুটা কমে যেতে পারে। তবে এটি তাদের সঞ্চয় বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

১৫ হাজার টাকার বেশি বেতনের কর্মীদের বিকল্প সুযোগ

যাদের মূল বেতন ১৫,০০০ টাকার বেশি এবং যারা আগে বাধ্যতামূলক পিএফ-এর আওতায় ছিলেন না, তাদের জন্য একটি বিশেষ বিকল্প রাখা হয়েছে। তারা চাইলে ভবিষ্যৎ সঞ্চয় বাড়ানোর জন্য পিএফ-এ বেশি অর্থ জমা দিতে পারেন অথবা হাতে পাওয়া বেতনের পরিমাণ ঠিক রাখতে ন্যূনতম অবদানের পথ বেছে নিতে পারেন।

ভবিষ্যৎ সুরক্ষা বনাম বর্তমান খরচ

সরকারের এই উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য হলো কর্মীদের অবসরের পরবর্তী জীবন সুরক্ষিত করা। যদিও প্রতি মাসে হাতে পাওয়া নগদ টাকার পরিমাণ কিছুটা কমবে, কিন্তু গ্র্যাচুইটি এবং পিএফ-এর মাধ্যমে অবসরের সময় পাওয়া এককালীন অর্থের পরিমাণ আগের তুলনায় বহুগুণ বাড়বে।

একঝলকে

ভাতার পরিমাণ মোট বেতনের ৫০ শতাংশের বেশি রাখা যাবে না।

মূল বেতন মোট বেতনের (CTC) অন্তত ৫০ শতাংশ হতে হবে।

পিএফ ও গ্র্যাচুইটি তহবিলে জমার পরিমাণ বাড়বে।

তরুণ কর্মীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদী সঞ্চয় ও সুদের বড় সুযোগ তৈরি হবে।

উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের টেক-হোম স্যালারি বা হাতে পাওয়া নগদ টাকা কিছুটা কমতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *