মুসলিম ভোট চাই না, মমতাকে মুখ্যমন্ত্রী করা আমার পাপ মানিকতলায় বিস্ফোরক তাপাস রায়

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর দামামা বাজতেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। উত্তর কলকাতার মানিকতলা বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী তাপস রায়ের সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্য ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া এই বর্ষীয়ান নেতা এবার সরাসরি সংখ্যালঘু ভোট ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন।

নির্বাচনী প্রচারে বেরিয়ে তাপস রায় স্পষ্ট জানান যে তার মুসলিম ভোটের কোনো প্রয়োজন নেই। তিনি নিজেকে ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ হিসেবে দাবি করতে নারাজ। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন যে এক সময় তাকে মুখ্যমন্ত্রী করতে সাহায্য করাটাই ছিল তার বড় ভুল এবং এখন তিনি সেই ‘পাপের’ জন্য পশ্চাতাপ করতে চান। তার অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রী ভোটব্যাংকের খাতিরে মুসলিমদের তোষণ করছেন।

তাপস রায়ের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও দলবদল

তাপস রায় পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে একজন অভিজ্ঞ মুখ। ২০০১ সাল থেকে একাধিকবার বিধায়ক নির্বাচিত হওয়া এই নেতা এক সময় তৃণমূলের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ছিলেন। তবে ২০২৪ সালের মার্চ মাসে তিনি তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন। এবারের নির্বাচনে মানিকতলা আসন থেকে তাকে প্রার্থী করেছে গেরুয়া শিবির। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে তার এই চরমপন্থী অবস্থান মূলত হিন্দু ভোটকে মেরুকরণ করার একটি কৌশল হতে পারে।

প্রচার ঘিরে আইনি জটিলতা

কেবল বিতর্কিত মন্তব্যই নয় প্রচারে গিয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরির অভিযোগে আইনি সংকটে পড়েছেন এই বিজেপি নেতা। ফুলবাগান থানায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের দুটি আবাসনের বাসিন্দারা। অভিযোগ অনুযায়ী তাপস রায় অনুমতি ছাড়াই দলবল নিয়ে আবাসনে ঢোকেন এবং বাধা দিলে নিরাপত্তারক্ষীদের হুমকি দেন। যদিও তাপস রায় এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

একঝলকে

  • প্রার্থী: তাপস রায় (বিজেপি মানিকতলা কেন্দ্র)।
  • বিতর্কিত মন্তব্য: তিনি মুসলিম ভোট চান না এবং নিজেকে ধর্মনিরপেক্ষ মনে করেন না।
  • মুখ্যমন্ত্রীর সমালোচনা: মমতাকে জেতানোকে নিজের ভুল ও পাপ বলে উল্লেখ করেছেন।
  • পুলিশের কাছে অভিযোগ: বিনা অনুমতিতে আবাসনে ঢুকে প্রচার ও হুমকির দায়ে মামলা দায়ের।
  • সম্পত্তির পরিমাণ: হলফনামা অনুযায়ী প্রায় ৩.৫ কোটি টাকার মালিক তিনি।
  • নির্বাচনের তারিখ: আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল দুই দফায় ভোট এবং ৪ মে ফলাফল ঘোষণা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *