ভারত আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তিতে নতুন মোড় এবং ওয়াশিংটনে তিন দিনের বিশেষ বৈঠক শুরু
ওয়াশিংটন ডিসিতে আজ ২০ এপ্রিল থেকে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি (BTA) নিয়ে তিন দিনের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শুরু হচ্ছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব দর্পণ জৈনের নেতৃত্বে ভারতের এক প্রতিনিধি দল এই আলোচনায় অংশ নিতে ইতিমধ্যে সেখানে পৌঁছেছেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই আলোচনার লক্ষ্য ছিল দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া, তবে সাম্প্রতিক কিছু আইনি ও কৌশলগত পরিবর্তনের কারণে এই বৈঠক এখন ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে।
ট্যারিফ জটিলতায় নতুন চ্যালেঞ্জ
আমেরিকার অভ্যন্তরীণ ট্যারিফ ব্যবস্থায় বড় ধরনের রদবদল আসার ফলে এই বৈঠকটি পূর্বনির্ধারিত ছকের বাইরে গিয়ে নতুন করে সাজাতে হচ্ছে। মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ১৯৭৭ সালের একটি আইন বাতিল করার পর দেশটি সব দেশের ওপর ১০ শতাংশ সাময়িক ফ্ল্যাট ট্যারিফ আরোপ করেছে। এর ফলে ভারত আগে যে বিশেষ বাণিজ্যিক সুবিধা পাওয়ার প্রত্যাশা করছিল, তা এখন প্রতিযোগিতামূলক বাজারে কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এই পরিস্থিতির কারণে ফেব্রুয়ারি মাসে হওয়ার কথা থাকা প্রধান মধ্যস্থতাকারীদের বৈঠকটিও পিছিয়ে গিয়েছিল।
চুক্তি পুনর্মূল্যায়ন ও ভারতের অবস্থান
চুক্তিটি এখনও স্বাক্ষরিত না হওয়ায় ভারত ও আমেরিকা উভয় পক্ষই বিদ্যমান খসড়াটি নতুন করে পর্যালোচনার সুযোগ পাচ্ছে। ট্যারিফ ছাড়াও ভারতের বিরুদ্ধে ইউএসটিআর (USTR) কর্তৃক শুরু করা ‘সেকশন ৩০১’ তদন্ত নিয়ে দিল্লি তীব্র আপত্তি জানাতে পারে। ভারতের দাবি, এই তদন্তের পর্যাপ্ত ভিত্তি নেই এবং এটি প্রত্যাহার করা উচিত। আন্তর্জাতিক বাজারের এই টালমাটাল অবস্থায় দুই দেশের বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষা করাই এখন এই আলোচনার মূল চ্যালেঞ্জ।
এক ঝলকে
- ২০ থেকে ২২ এপ্রিল ওয়াশিংটনে ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তির প্রথম ধাপ নিয়ে আলোচনা চলছে।
- আমেরিকার নতুন ১০ শতাংশ ফ্ল্যাট ট্যারিফ নীতির কারণে বাণিজ্য চুক্তির খসড়া পুনরায় তৈরি করতে হচ্ছে।
- অতিরিক্ত সচিব দর্পণ জৈনের নেতৃত্বে ভারতের শুল্ক ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বৈঠকে যোগ দিয়েছেন।
- মার্কিন তদন্ত এবং ট্যারিফ সংক্রান্ত বাধা দূর করে একটি টেকসই দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলাই এই বৈঠকের লক্ষ্য।