মাছের পাতে বিষ! মারণ রোগ ঢুকছে শরীরে!

বাজারে মিলছে ফর্মালিন মিশ্রিত মাছ, জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ

বাজার থেকে কেনা টাটকা মাছের মধ্যে মিশে যাচ্ছে ফর্মালিন। মূলত মৃতদেহ সংরক্ষণে ব্যবহৃত এই রাসায়নিকটি মাছকে দীর্ঘক্ষণ তাজা দেখাতে ব্যবহার করছে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী। ফর্মালিনের প্রলেপে বাসি মাছও চকচকে ও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠায় ক্রেতাদের পক্ষে চেনা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ছে। এই বিষাক্ত রাসায়নিক সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই ফর্মালিন মিশ্রিত মাছ নিয়মিত খেলে তাৎক্ষণিক কাশি, শ্বাসকষ্ট, ত্বকে জ্বালা সহ নানা উপসর্গ দেখা দিতে পারে। দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব আরও ভয়াবহ। চিকিৎসকদের মতে, এটি একটি শক্তিশালী কারসিনোজেন অর্থাৎ ক্যান্সার সৃষ্টিকারী পদার্থ। নিয়মিত এই বিষ শরীরে প্রবেশ করলে লিভার, কিডনি, হার্ট এবং মগজের স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে। এমনকি ব্রঙ্কাইটিস ও নিউমোনিয়ার মতো জটিল রোগও এর প্রভাবে দেখা দিতে পারে। আন্তর্জাতিক ক্যানসার গবেষণা সংস্থা (IARC) ইতিমধ্যেই একে মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

ফর্মালিনযুক্ত মাছ শনাক্ত করার কিছু সহজ উপায় রয়েছে। ফর্মালিন দেওয়া মাছে সাধারণত মাছি বসে না এবং মাছ থেকে একটি তীব্র ঝাঁঝাল গন্ধ পাওয়া যায়। মাছের চোখ ঘোলাটে বা লেজ ও পাখনা কুঁকড়ে থাকলে তা বাসি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। টাটকা মাছের কানকো লালচে হলেও ফর্মালিন দেওয়া বাসি মাছের কানকো কালচে রঙের হয়। এই রাসায়নিকের প্রভাব কমাতে মাছ রান্নার আগে ঠান্ডা জলে ও পরে নুন মেশানো জলে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখা যেতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *