পাক সেনাপ্রধানের ওপর মার্কিন গোয়েন্দাদের ‘রেড ফ্ল্যাগ!’

আমেরিকা-ইরান শান্তি আলোচনায় পাকিস্তানি সেনাপ্রধানকে নিয়ে মার্কিন গোয়েন্দাদের সতর্কতা

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনায় পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের ভূমিকাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে জেনারেল মুনিরের প্রশংসা করলেও, সে দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তাঁর ব্যাপারে সতর্কবার্তা জারি করেছে। প্রাপ্ত গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানের উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে জেনারেল মুনিরের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ মার্কিন স্বার্থের পরিপন্থী হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

ফক্স নিউজের একটি প্রতিবেদনে জেনারেল আসিম মুনিরকে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি ‘রেড ফ্ল্যাগ’ বা বিপৎসংকেত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, অতীতে মার্কিন হামলায় নিহত কুদস ফোর্সের কমান্ডার কাসিম সুলেমানি এবং আইআরজিসি প্রধান হোসেন সালামির মতো কর্মকর্তাদের সঙ্গে মুনিরের সুসম্পর্ক ছিল। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তান ঐতিহাসিকভাবেই একটি অনির্ভরযোগ্য মিত্র। ওসামা বিন লাদেনের ঘটনার উদাহরণ টেনে বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন যে, জেনারেল মুনির একদিকে ট্রাম্পের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চললেও, গোপনে ইরানের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করতে পারেন।

পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও জেনারেল মুনিরের প্রভাব নিয়েও বিতর্ক বাড়ছে। ২০২২ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি যেভাবে রাজনৈতিক বিরোধীদের দমনে ভূমিকা রেখেছেন, তাতে বেসামরিক নেতৃত্বের ওপর সেনাবাহিনীর আধিপত্য স্পষ্ট বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। মে ২০২৫-এ ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের পর আমেরিকার সঙ্গে তাঁর সখ্য বাড়লেও, বর্তমান গোয়েন্দা রিপোর্ট সেই আস্থায় ফাটল ধরাতে পারে। ইসলামাবাদে ইরান ও আমেরিকার প্রথম দফার বৈঠক ফলপ্রসূ না হওয়ায় দ্বিতীয় দফার আলোচনার দিকে তাকিয়ে আছে বিশ্ব; তবে জেনারেল মুনিরকে ঘিরে ঘনীভূত এই সন্দেহ সমগ্র শান্তি প্রক্রিয়াকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *