অক্ষয় তৃতীয়া সোনায় ভাগ্য ফেরানোর সেরা সময়? কৌশলের সন্ধান!
অক্ষয় তৃতীয়ায় সোনা কেনা: প্রথা ও বিনিয়োগের সমন্বয়
অক্ষয় তৃতীয়ার পুণ্যলগ্নে সোনা কেনার বাঙালির দীর্ঘদিনের প্রথা প্রচলিত। তবে বিশেষজ্ঞরা বর্তমান বাজারে এই প্রথাকে কেবল ধর্মীয় আচারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের কৌশল হিসেবে বিবেচনা করার পরামর্শ দিচ্ছেন। আকাশছোঁয়া দামের এই সময়ে এককালীন বড় অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ না করে ধাপে ধাপে সোনা কেনা বুদ্ধিমানের কাজ বলে মনে করছেন তারা। এই কৌশলে বাজারের অস্থিরতা এড়িয়ে দীর্ঘ মেয়াদে ভালো রিটার্ন পাওয়া সম্ভব।
বিগত পাঁচ বছরের তথ্য অনুযায়ী, অক্ষয় তৃতীয়া থেকে পরবর্তী সময় পর্যন্ত সোনা গড়ে বার্ষিক প্রায় ৩০ শতাংশ রিটার্ন দিয়েছে। বর্তমান উচ্চ মূল্যের বাজারে বিশেষজ্ঞরা ‘অ্যাভারেজিং’ বা গড় করার কৌশল অবলম্বনের পরামর্শ দিচ্ছেন। এর মানে হলো, শুভ দিনে বিনিয়োগ শুরু করার পর দাম সামান্য কমলে অল্প অল্প করে সোনা যোগ করলে গড় ক্রয়মূল্য কমে আসবে। এতে উচ্চ মূল্যে কেনার ঝুঁকি কমবে এবং দিওয়ালি নাগাদ ভালো মুনাফা লাভের সম্ভাবনা তৈরি হবে।
বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা এবং বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সোনা মজুত করার প্রবণতা দাম বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। তবে পশ্চিম এশিয়ার রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং সুদের হারের ওঠানামার প্রভাবে দাম সাময়িকভাবে স্থিতিশীল হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে, অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মোট বিনিয়োগ পোর্টফোলিওর অন্তত ১৫ থেকে ২০ শতাংশ সোনায় রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন। এতে আর্থিক ঝুঁকির ভারসাম্য বজায় থাকে এবং বাজারের অস্থিরতা সত্ত্বেও মূলধন সুরক্ষিত থাকে। ক্রমবর্ধমান মূল্যের কথা মাথায় রেখে, গয়নার পাশাপাশি সোনা ও রুপোর মুদ্রা আগে থেকে বুকিং করার প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে। এই পদ্ধতিতে ক্রেতারা একটি নির্দিষ্ট মূল্য নিশ্চিত করার সুযোগ পান। সঠিক পরিকল্পনা ও পর্যায়ক্রমে বিনিয়োগ করা হলে সোনা ভবিষ্যতে একটি শক্তিশালী সম্পদে পরিণত হতে পারে।