ভারত পেল স্বস্তি, হরমুজ প্রণালীতে বড় খবর!

হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতিতে স্বস্তি, ভারতের জন্য ত্রিবিধ সুফল

প্রায় দেড় মাস পর বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি অত্যন্ত স্বস্তির খবর এসেছে। ইরানের বিদেশ মন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের জেরে অবরুদ্ধ থাকা হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হওয়া এই উত্তেজনার কারণে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছিল। হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি জলপথ, যেখানে দৈনিক কোটি কোটি ব্যারেল তেল ও অন্যান্য পণ্যfrom আমদানি-রপ্তানি হয়। এই পথ বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।

হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ার খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১২ শতাংশ কমে গেছে। ভারতের মতো দেশ, যারা তার প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেলের একটি বড় অংশ আমদানি করে, তাদের জন্য এটি একটি বড় স্বস্তি। তেলের দাম হ্রাস পাওয়ায় ভারতের আমদানি ব্যয় কমবে, যা দেশের চলতি হিসাবের ঘাটতি কমাতে এবং সরকারি কোষাগারের উপর চাপ কমাতে সহায়ক হবে। পাশাপাশি, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রশমিত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে আসছে। এর ইতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে ভারতীয় শেয়ার বাজারে। ভারতে সোমবার শেয়ার বাজার খোলার আগেই গিফট নিফটি প্রায় ৪০০ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে, যা তেল বিপণন সংস্থা, পেইন্ট, টায়ার এবং এভিয়েশন খাতের শেয়ারের দাম বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতিতে বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরাও ভারতীয় বাজারে পুনরায় সক্রিয় হতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, জ্বালানি তেলের সাপ্লাই চেইন স্বাভাবিক হওয়ার খবরে সোনা ও রুপার বাজারেও বড় পরিবর্তন এসেছে। যুদ্ধের আতঙ্কের পরিবর্তে ব্যবসায়িক চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে অভ্যন্তরীণ বাজারে রুপার দাম প্রতি কেজি ২.৬১ লক্ষ টাকা এবং সোনার দাম প্রতি ভরি ১.৫৫ লক্ষ টাকা স্পর্শ করেছে। এই অর্থনৈতিক রূপান্তর মূলত ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং বাণিজ্যিক গতিবিধি পুনরায় শুরু হওয়ার ফলেই ঘটছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *