পশ্চিমবঙ্গের পর্যবেক্ষক নিয়োগ নিয়ে বিজেপির আসল খেলা কী?

বর্তমান ডেস্কঃ

পশ্চিমবঙ্গে নজিরবিহীন কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পর্যবেক্ষক মোতায়েন: নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন

পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন দুই দফার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের গৃহীত পদক্ষেপ রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। ২৩ ও ২৯ এপ্রিলের ভোটগ্রহণকে সামনে রেখে রাজ্যে প্রায় আড়াই লক্ষ আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে, যা যে কোনো রাজ্যের নির্বাচনের নিরিখে সর্বকালের সর্ববৃহৎ সংখ্যা। পর্যবেক্ষকদের মতে, ব্যাপকহারে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও ভিনরাজ্যের আইএএস আধিকারিকদের নিয়োগের ফলে রাজ্যের প্রশাসনিক কর্তৃত্ব কার্যত কমিশনের হাতে চলে গেছে। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, এই অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন এবং দফায় দফায় উচ্চপদস্থ পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বদলি শুধুমাত্র আইনশৃঙ্খলা রক্ষার খাতিরে ঘটেনি, বরং শাসকদলকে কোণঠাসা করার একটি কৌশল হিসেবে কাজ করছে।

নিরাপত্তা ও পর্যবেক্ষক নিয়োগের বৈষম্য

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে যে পরিমাণ সামরিক শক্তি প্রয়োগ করা হয়েছে, তা বিগত বছরগুলোর তুলনায় বহুগুণ বেশি। এমনকি অশান্ত এলাকা হিসেবে পরিচিত জম্মু-কাশ্মীর বা মণিপুরের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি অনেক বেশি হওয়ায় প্রশ্ন উঠছে রাজ্যের প্রকৃত পরিস্থিতি নিয়ে। শুধু বাহিনী নয়, ২৯৪টি বিধানসভার প্রতিটি আসনেই ভিনরাজ্য থেকে সাধারণ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে, যার বড় অংশই এসেছে বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলো থেকে। একইসাথে পুলিশি পর্যবেক্ষকের সংখ্যা দ্বিগুণের বেশি বাড়িয়ে এবং নির্বাচনের দিন ঘোষণার পর থেকে প্রায় ৪৮৩ জন সরকারি আধিকারিককে বদলি করার ঘটনা প্রশাসনিক কাঠামোয় বড় ধরনের অদলবদল ঘটিয়েছে, যা কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের মনে গভীর সংশয় তৈরি করেছে।

এক নজরে

  • পশ্চিমবঙ্গে দুই দফার নির্বাচনে প্রায় ২.৫০ লক্ষ কেন্দ্রীয় জওয়ান মোতায়েন করা হয়েছে, যা রেকর্ড।
  • নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকারী অধিকাংশ সাধারণ পর্যবেক্ষককে বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলো থেকে নির্বাচন করা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
  • নির্বাচনের দিন ঘোষণার পর থেকে ৪৮৩ জন প্রশাসনিক ও পুলিশ আধিকারিককে বদলি করা হয়েছে।
  • জম্মু-কাশ্মীরের মতো সংবেদনশীল এলাকার তুলনায় পশ্চিমবঙ্গে বাহিনীর এই বিপুল উপস্থিতি নিয়ে অসংগতির অভিযোগ উঠেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *