হতাশা ভুলে প্রাণবন্ত হতে চান? আজই শুরু করুন নিয়মিত সূর্য প্রণাম!
বর্তমান ডেস্কঃ
ব্যস্ত জীবনে গতির সঙ্গে পাল্লা দিতে গিয়ে বাড়ছে মানসিক চাপ, উদ্বেগ এবং বিষণ্নতা। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বে প্রায় ২৮০ মিলিয়ন মানুষ বর্তমানে অবসাদজনিত সমস্যায় ভুগছেন। এই পরিস্থিতিতে চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে নয়, বরং ওষুধের পরিপূরক হিসেবে কাজ করতে পারে প্রাচীন ভারতীয় ব্যায়াম ‘সূর্য প্রণাম’। যোগ প্রশিক্ষক থেকে শুরু করে নিউরোসার্জন— সকলেই এখন একে ‘প্রাকৃতিক অ্যান্টি-ডিপ্রেসেন্ট’ হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছেন।
মন ভালো রাখার হরমোন ও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি
চিকিৎসকদের মতে, মস্তিষ্কে ‘সেরোটোনিন’ নামক হরমোনের ঘাটতিই মূলত বিষণ্নতা বা উদ্বেগের প্রধান কারণ। সূর্য প্রণাম করলে শরীরে এই ‘ন্যাচারাল মুড স্টেবিলাইজ়ার’ হরমোনের নিঃসরণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। ‘ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অফ রিসার্চ ইন মেডিক্যাল সায়েন্সেস’-এর একটি গবেষণায় ৮০ জন ব্যক্তির ওপর টানা ৬ মাস পর্যবেক্ষণ চালিয়ে এর ইতিবাচক প্রভাবের প্রমাণ মিলেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত এই ব্যায়াম মানসিক চাপ কমানোর পাশাপাশি শরীরের অভ্যন্তরীণ সিস্টেমকে সচল রাখতে সাহায্য করে।
১২টি ভঙ্গিমার শারীরিক ও মানসিক প্রভাব
সূর্য প্রণাম মূলত ১২টি বিশেষ ভঙ্গিমার একটি সুশৃঙ্খল পর্যায়। এতে প্রাণায়াম থেকে শুরু করে ভুজঙ্গাসন এবং অধোমুখ শবাসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ধাপ রয়েছে। এই পর্যায়ক্রমিক ব্যায়ামগুলো যেভাবে শরীর ও মনের ওপর কাজ করে:
- স্নায়ুতন্ত্রের উদ্দীপনা: প্রতিটি ধাপ শরীরের পাশাপাশি সরাসরি স্নায়ুতন্ত্রকে উদ্দীপিত করে, যা মনকে শান্ত রাখতে সাহায্য করে।
- হরমোন নিয়ন্ত্রণ: এটি শরীরের হরমোন ক্ষরণ প্রক্রিয়াকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে, যা দীর্ঘমেয়াদী দুশ্চিন্তা কমায়।
- শারীরিক সুস্থতা: কেবল মানসিক নয়, ওজন কমানো, বিএমআই (BMI) নিয়ন্ত্রণ এবং পেটের মেদ ঝরাতেও এটি অত্যন্ত কার্যকর।
কেন এটি ওষুধের চেয়ে আলাদা
অনেকেই বিষণ্নতা কাটাতে চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধের ওপর নির্ভর করেন। তবে দীর্ঘমেয়াদী ওষুধের কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকতে পারে। যোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, সূর্য প্রণাম কোনো খরচ ছাড়াই শরীরের নিজস্ব নিরাময় ক্ষমতাকে জাগ্রত করে। এটি হৃদযন্ত্রের কর্মক্ষমতা বাড়ায় এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটি সিস্টেমকে শক্তিশালী করে তোলে।
এক নজরে
- সূর্য প্রণাম প্রাকৃতিক অ্যান্টি-ডিপ্রেসেন্ট হিসেবে কাজ করে।
- এটি মস্তিষ্কে মন ভালো রাখার হরমোন ‘সেরোটোনিন’ বৃদ্ধি করে।
- উদ্বেগ, মানসিক চাপ এবং অনিয়ন্ত্রিত চিন্তা কমাতে সাহায্য করে।
- শরীরের নমনীয়তা বাড়ায় এবং হৃদযন্ত্র ভালো রাখে।
- ওজন নিয়ন্ত্রণ ও মেদ ঝরাতে দারুণ কার্যকর।