ভোটের টানে ঘরমুখী পরিযায়ী, নাগরিকত্ব হারানোর ভয়ে ফিরছেন লক্ষ লক্ষ মানুষ!

বর্তমান ডেস্কঃ

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দিল্লি, মুম্বই, বেঙ্গালুরু এবং হায়দরাবাদের মতো মেগাসিটি থেকে পরিযায়ী শ্রমিকদের বাংলায় ফেরার ঢল নেমেছে। কাজ হারানোর ঝুঁকি থাকলেও নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে তাঁরা বদ্ধপরিকর। ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল দুই দফায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে দূরপাল্লার ট্রেনের টিকিট না পেয়ে অনেকেই বিকল্প হিসেবে বাসের ব্যবস্থা করছেন।

নাগরিকত্ব হারানোর ভয় ও এসআইআর আতঙ্ক

পরিযায়ী শ্রমিকদের এই বিপুল হারে ফিরে আসার নেপথ্যে কাজ করছে এক গভীর আতঙ্ক। শ্রমিকদের মনে ভয় ঢুকেছে যে, এবার ভোট না দিলে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যেতে পারে কিংবা তাঁরা নাগরিকত্ব হারাতে পারেন। বিশেষ করে এসআইআর (SIR) সংক্রান্ত ভীতি তাঁদের ঘরমুখী হতে বাধ্য করছে। দক্ষিণ দিনাজপুরের বাসিন্দা পোড্ডা জানান, ট্রেনের লম্বা ওয়েটিং লিস্ট থাকা সত্ত্বেও তাঁরা সপরিবারে রওনা দিচ্ছেন কারণ নাগরিকত্ব রক্ষার লড়াই তাঁদের কাছে জীবিকার চেয়েও বড়।

রাজনৈতিক বার্তা ও জনমানসে প্রভাব

রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের ক্রমাগত প্রচার এই ভীতিকে আরও উসকে দিয়েছে। কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তা সরাসরি প্রভাব ফেলেছে অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকদের ওপর। ভোটারদের মধ্যে এই বার্তা পৌঁছেছে যে, ভোট না দিলে ভবিষ্যতে এনআরসি-র মতো প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাঁদের নাগরিক পরিচয় সংকটে পড়তে পারে।

শিল্পাঞ্চল ও অসংগঠিত ক্ষেত্রে প্রভাব

শ্রমিকদের এই গণহারে প্রস্থানে মেট্রো শহরগুলোর বিভিন্ন শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

  • স্বর্ণশিল্প: মুম্বইয়ের গয়না কারখানার মালিকদের দাবি, এলপিজি সিলিন্ডারের ঘাটতি এবং শ্রমিকদের ভোট দিতে চলে যাওয়ার কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। অনেক কারখানায় অর্ধেক কারিগর ইতিমধ্যে রাজ্য ছেড়েছেন।
  • গৃহকর্মী ও অন্যান্য: পরিচারিকা, আয়া এবং রাঁধুনি হিসেবে কর্মরত কয়েক হাজার মানুষ তাঁদের কর্মস্থল ছেড়ে গ্রামে ফিরছেন।

এই বিশাল জনস্রোত প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, অসংগঠিত খাতের শ্রমিকদের কাছে নির্বাচন কেবল প্রতিনিধি বাছাই নয়, বরং নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার এক মাধ্যম।

এক নজরে

  • ভোটের তারিখ: ২৩ ও ২৯ এপ্রিল ২০২৬।
  • প্রধান কারণ: ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার ভয় এবং নাগরিকত্ব রক্ষার তাগিদ।
  • প্রভাবিত শহর: দিল্লি, মুম্বই, বেঙ্গালুরু ও হায়দরাবাদ।
  • বিকল্প ব্যবস্থা: ট্রেনের টিকিট না পেয়ে অনেকে বেসরকারি বাসে ফিরছেন।
  • সংকট: ভিনরাজ্যের গয়না শিল্প ও অসংগঠিত ক্ষেত্রে শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *