রক্ত বের করে ফের ইনজেক্ট! শরীরে ভয়ঙ্কর নেশার থাবা?
বর্তমান ডেস্কঃ
মধ্যপ্রদেশের রাজধানী ভোপালে এক ভয়াবহ ও অদ্ভুত নেশার খবর সামনে এসেছে যা চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। এই মরণনেশার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ব্লাড কিক’। মাদক বা অন্য কোনো রাসায়নিক দ্রব্য নয়, বরং নিজের শরীর থেকে সিরিঞ্জের মাধ্যমে রক্ত বের করে পুনরায় তা শরীরে প্রবেশ করানোর মাধ্যমেই এক শ্রেণির তরুণ-তরুণী নেশার স্বাদ খুঁজছেন। ভোপালের গান্ধী মেডিক্যাল কলেজে ইতিমধ্যেই এই নেশায় আক্রান্ত ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী ৫ জন রোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে।
নেশা নাকি মানসিক বিভ্রান্তি?
চিকিৎসকদের মতে, ‘ব্লাড কিক’ আসলে কোনো প্রথাগত ড্রাগ বা রাসায়নিক আসক্তি নয়। এটি মূলত একটি ‘বিহেভিয়ারাল অ্যাডিকশন’ বা আচরণগত আসক্তি। রক্ত শরীর থেকে টেনে বের করার সময় যে যন্ত্রণা অনুভূত হয় এবং পরবর্তীতে তা শরীরে পুনরায় প্রবেশ করানোর যে অনুভূতি, তা থেকেই এক ধরনের বিকৃত আনন্দ পাচ্ছেন এই আসক্তরা। চিকিৎসকদের ভাষায়, এটি মূলত নেশার একটি ভ্রান্তি এবং এক ধরনের মানসিক অস্থিরতার বহিঃপ্রকাশ।
উপসর্গ ও আচরণগত পরিবর্তন
এই মরণনেশায় আক্রান্ত তরুণদের মধ্যে বেশ কিছু অস্বাভাবিক পরিবর্তন লক্ষ্য করেছেন তাঁদের পরিবারের সদস্যরা। আসক্তদের মধ্যে যে সাধারণ লক্ষণগুলো দেখা যাচ্ছে তা হলো:
- তুচ্ছ কারণে চরম উত্তেজিত হয়ে পড়া বা হঠাৎ রেগে যাওয়া।
- আচরণের মধ্যে সবসময় এক ধরণের অস্থিরতা কাজ করা।
- অদ্ভুত ও অসংলগ্ন ব্যবহার করা।
শারীরিক ক্ষতির ভয়াবহ আশঙ্কা
কলকাতার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, এই অভ্যাস কোনো সাধারণ নেশা নয়, বরং জীবননাশী ঝুঁকি। বিশিষ্ট প্যাথোলজিস্ট ডা. উৎসব দাসের মতে, এভাবে সিরিঞ্জের মাধ্যমে রক্ত টানা ও পুশ করার ফলে শরীরে সেপসিস বা মারাত্মক রক্ত সংক্রমণ হতে পারে। একই সিরিঞ্জ একাধিকবার ব্যবহারের ফলে এইচআইভি (HIV) বা হেপাটাইটিসের মতো জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। এছাড়া এর ফলে মানবদেহের একাধিক অঙ্গ বিকল হওয়া এবং বিপজ্জনক অ্যানিমিয়া বা রক্তাল্পতা দেখা দিতে পারে।
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. রুদ্রজিৎ পালের মতে, রক্তের উপাদানের মধ্যে নেশা হওয়ার মতো কোনো কিছু থাকে না। এটি মূলত মানসিক সমস্যার ফল। যারা এই ধরনের কাজ করছেন, তাদের দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ এবং কাউন্সেলিং নেওয়া প্রয়োজন।
বর্তমানের ঝলক
- নেশার নাম: ব্লাড কিক।
- প্রক্রিয়া: শরীর থেকে রক্ত বের করে পুনরায় সিরিঞ্জে করে শরীরে ঢোকানো।
- আক্রান্তের বয়স: ১৮ থেকে ২৫ বছরের তরুণ প্রজন্ম।
- প্রধান ঝুঁকি: সেপসিস, এইচআইভি, হেপাটাইটিস ও অঙ্গ বিকল হওয়া।
- মূল কারণ: আচরণগত আসক্তি ও মানসিক অস্থিরতা।