ইরানে প্রতিবাদের মাশুল মৃত্যুদণ্ড! প্রাণ হারালেন ৪ বিক্ষোভকারী
বর্তমান ডেস্কঃ
ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে বিচার বিভাগীয় কঠোর পদক্ষেপের মুখে পড়েছেন বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী। বিশেষ করে বিটা হেম্মতি নামে এক নারীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশটির আদালত। যদি এই দণ্ড কার্যকর হয়, তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সরকারবিরোধী আন্দোলনের দায়ে ইরানে ফাঁসি হওয়া প্রথম নারী হবেন তিনি।
বিটা হেম্মতির পাশাপাশি এই মামলায় তাঁর স্বামী মোহাম্মদরেজা মজিদ আসল এবং আরও দুই ব্যক্তি—বেহরোজ ও কোরেশ জামানিনেজাদকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আদালতের রায়ে তাদের স্থাবর-অস্থাবর সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা গুরুতর অভিযোগসমূহ
ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। তাঁদের বিরুদ্ধে আনীত প্রধান অভিযোগগুলো হলো:
- জানুয়ারি মাসে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভে সরাসরি অংশগ্রহণ ও সহিংসতা উসকে দেওয়া।
- নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা এবং বিস্ফোরক ও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার।
- ভবনের ছাদ থেকে নিরাপত্তা কর্মীদের লক্ষ্য করে পাথর, বোতল ও অগ্নিসংযোগকারী বস্তু নিক্ষেপ।
- সরকারি ও জনসাধারণের জানমালের ক্ষতিসাধন এবং সরকারবিরোধী স্লোগান দেওয়া।
এই একই মামলায় বিটা হেম্মতির আত্মীয় আমির হেম্মতিকেও সাজা দেওয়া হয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবং সরকারের বিরুদ্ধে প্রচারণার অভিযোগে তাঁকে ছয় বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বিক্ষোভের প্রেক্ষাপট ও বিচারিক ব্যবস্থার কঠোরতা
২০২৪ সালের ডিসেম্বরের শেষের দিকে ইরানে এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। শুরুতে ব্যবসায়ী ও দোকানদাররা ধর্মঘট শুরু করলেও দ্রুত তা সাধারণ শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। তেহরানসহ বড় বড় শহরগুলো বিক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কঠোর অবস্থান নেয় প্রশাসন। এর ফলে বহু আন্দোলনকারীকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কঠোর সাজা দেওয়া শুরু হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানে বর্তমানে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। ২০২৫ সালের তথ্যানুযায়ী, সেখানে প্রায় প্রতিদিন গড়ে একাধিক ব্যক্তির ফাঁসি কার্যকর করা হচ্ছে, যার মধ্যে নারীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। বিটা হেম্মতির ক্ষেত্রে এই কঠোর সাজা আন্দোলনকারীদের মধ্যে ভীতি সঞ্চার করার একটি কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এক নজরে
- মূল অভিযুক্ত: বিটা হেম্মতি (ফাঁসির আদেশপ্রাপ্ত প্রথম নারী আন্দোলনকারী হওয়ার পথে)।
- অন্যান্য দণ্ডপ্রাপ্ত: মোহাম্মদরেজা মজিদ আসল, বেহরোজ এবং কোরেশ জামানিনেজাদ (তিনজনেরই মৃত্যুদণ্ড)।
- অতিরিক্ত সাজা: দোষী ব্যক্তিদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত এবং আমির হেম্মতিকে ৬ বছরের কারাদণ্ড।
- অপরাধের ধরন: সহিংসতা, অস্ত্র ব্যবহার এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা।
- বর্তমান পরিস্থিতি: ইরানে সাম্প্রতিক সময়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের হার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।