অনুপ্রবেশ রুখতে সীমান্তে সাপ ও কুমির মোতায়েনের অভিনব পরিকল্পনা বিএসএফের
পূর্ব ভারতের সীমান্ত সুরক্ষিত করতে এবং অনুপ্রবেশের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে বিএসএফ (BSF) এক অভাবনীয় পদক্ষেপের পরিকল্পনা করছে। সীমান্তের নদী ও জলাভূমি এলাকায় প্রাকৃতিক বাধার অংশ হিসেবে সাপ এবং কুমির মোতায়েন করার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। অনুপ্রবেশকারীদের মনে ভীতি তৈরি করতে এই প্রাকৃতিক সুরক্ষাকবচ কতটুকু কার্যকর হবে, তা নিয়ে ইতিমধ্য়েই নানা মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সাপ ও কুমির মোতায়েনের বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জ বিএসএফের এই পরিকল্পনা বাস্তবে রূপদান করা কতটা সম্ভব, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। শিলিগুড়ির ডাবগ্রাম বনদপ্তরের এক কর্মীর মতে, সাপকে নির্দিষ্ট কোনো গণ্ডির মধ্যে আটকে রাখা প্রায় অসম্ভব। সাপ সাধারণত মুক্ত বিচরণ করতে পছন্দ করে এবং একটি নির্দিষ্ট এলাকায় তাকে জোর করে রাখা যায় না। তবে কুমিরের ক্ষেত্রে বিষয়টি কিছুটা আলাদা। যদি উপযুক্ত পরিবেশ এবং পর্যাপ্ত খাদ্যের জোগান নিশ্চিত করা যায়, তবে বদ্ধ জলাশয়ে কুমির রাখা সম্ভব হতে পারে।
প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও বাস্তুতন্ত্রের উপর প্রভাব যত্রতত্র বিষাক্ত সাপ ছেড়ে দেওয়া পরিবেশের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বনদপ্তরের আধিকারিকদের মতে, সব সাপ সব পরিবেশে বেঁচে থাকতে পারে না। যেমন, ডাবগ্রাম এলাকায় মূলত বিষহীন জলঢোরা সাপ দেখা যায়। গোখরোর মতো বিষাক্ত সাপ সাধারণত শুকনো জায়গায় থাকতে পছন্দ করে, জলাভূমিতে নয়। এছাড়া বিপুল সংখ্যক সাপ এক জায়গায় ছাড়লে স্থানীয় বাস্তুতন্ত্র বিঘ্নিত হতে পারে। সাপের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে ইঁদুর বা অন্যান্য ছোট প্রাণীর সংখ্যা কমে যাবে, যা শেষ পর্যন্ত খাদ্যশৃঙ্খলে অস্থিরতা তৈরি করবে।
বিএসএফের এই মাস্টারস্ট্রোক কি সফল হবে? সীমান্ত পাহারায় প্রযুক্তির পাশাপাশি এই ধরনের প্রাকৃতিক উপায় বেছে নেওয়ার বিষয়টি বিএসএফের এক নতুন কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের অভিযোগ বা বাংলাদেশি দুষ্কৃতীদের দমনের প্রশ্নে বিএসএফ কঠোর অবস্থান নিলেও, সাপ ও কুমির ব্যবহারের পরিকল্পনাটি পরিবেশগত এবং প্রায়োগিক দিক থেকে বড়সড় পরীক্ষার মুখে পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
একঝলকে
- অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে সাপ ও কুমির মোতায়েনের পরিকল্পনা বিএসএফের।
- বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাপকে নির্দিষ্ট জায়গায় আটকে রাখা অসম্ভব।
- কুমিরের জন্য প্রয়োজন সঠিক খাদ্যের জোগান ও উপযুক্ত জলাভূমি।
- বিষাক্ত সাপ যেমন গোখরো জলা এলাকায় বসবাস করতে অভ্যস্ত নয়।
- অত্যধিক প্রাণী মোতায়েন স্থানীয় বাস্তুতন্ত্র ও খাদ্যশৃঙ্খলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।