কলকাতার ভোটে বিজেপির সাইলেন্ট স্ট্র্যাটেজি না কি সাংগঠনিক দুর্বলতা

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে যখন উত্তপ্ত বাংলা, তখন কলকাতার একাধিক আসনে দেখা যাচ্ছে এক অভাবনীয় ছবি। রাজপথে দেওয়াল লিখন বা পোস্টার-ব্যানারের চিরাচরিত লড়াইয়ে বিজেপিকে ছাপিয়ে যাচ্ছে বামপন্থীরা। রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল হয়েও খাস কলকাতায় গেরুয়া শিবিরের এই ‘নীরবতা’ রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। তবে কি এটি দলের সুপরিকল্পিত কোনো রণনীতি, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো বড় কারণ?

প্রচারের ময়দান ছেড়ে ডিজিটাল দুনিয়ায় বিজেপি

ভোটের আবহে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে শুরু করে অমিত শাহ—কেন্দ্রীয় নেতাদের আনাগোনা বাড়ছে। রাজ্যে শুভেন্দু অধিকারী বা সুকান্ত মজুমদারের মতো নেতারা ঝোড়ো প্রচার চালাচ্ছেন। কিন্তু কলকাতার চিত্র বলছে অন্য কথা। শহর ও শহরতলির আসনগুলোতে বিজেপিকে সেভাবে পথে দেখা যাচ্ছে না। বদলে তারা সর্বশক্তি ঢেলে দিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ফেসবুক বা এক্স-এর (সাবেক টুইটার) পর্দায় গেরুয়া শিবির অত্যন্ত সক্রিয় থাকলেও, বাস্তবের মাটিতে তাদের দৃশ্যমানতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

কেন এই রহস্যময় নীরবতা

বিশ্লেষকদের মতে, বিজেপির এই কৌশলের পেছনে মূলত তিনটি কারণ থাকতে পারে:

  • টার্গেট অডিয়েন্স: শহুরে ভোটারদের একটি বড় অংশ সমাজ মাধ্যমে সময় কাটান। দেওয়াল লিখনের চেয়ে সোশ্যাল মিডিয়া ক্যাম্পেইন তাদের কাছে বেশি প্রভাবশালী হতে পারে বলে মনে করছে দল।
  • কর্মী ও প্রার্থীর রসায়ন: অনেক ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো প্রার্থীকে নিয়ে স্থানীয় কর্মীদের মধ্যে অনীহা বা অসন্তোষ থাকতে পারে। ফলে তারা রাস্তায় নেমে প্রচার করার উৎসাহ হারিয়ে ফেলেছেন।
  • সাংগঠনিক দুর্বলতা: কলকাতার বেশ কিছু এলাকায় বিজেপির বুথ স্তরের সংগঠন এখনো আশানুরূপ শক্তিশালী নয়। প্রকাশ্যে লড়াই দেওয়ার বদলে তাই তারা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে নিরাপদ মনে করছে।

বিজেপি নেতা রাজর্ষি লাহিড়ি অবশ্য সাংগঠনিক দুর্বলতার তত্ত্ব উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট রণনীতি মেনেই দল চলছে। সাধারণ মানুষকে বুথ পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারলেই জয় সুনিশ্চিত বলে তিনি মনে করেন।

নির্বাচন কমিশনের কড়া নজরদারি

ভোটের এই আবহে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। বিশেষ করে সংশোধনাগারগুলোকে ‘স্পর্শকাতর অঞ্চল’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ‘বাহুবলী’ বা প্রভাবশালী বন্দিরা যাতে জেল থেকে বসে ভোটে প্রভাব খাটাতে না পারে, সেজন্য প্যারোল স্থগিত এবং আকস্মিক পরিদর্শনের মতো একগুচ্ছ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

একঝলকে

  • কলকাতার একাধিক আসনে বিজেপির গ্রাউন্ড ক্যাম্পেইন বা দেওয়াল লিখন তুলনামূলকভাবে কম।
  • সিপিআইএম বা বামেদের প্রচার মাঠপর্যায়ে অনেক বেশি দৃশ্যমান।
  • বিজেপি মূলত শহুরে ভোটারদের টানতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক প্রচার চালাচ্ছে।
  • জেলের ভেতর থেকে ভোট নিয়ন্ত্রণ আটকাতে নির্বাচন কমিশনের বিশেষ কড়াকড়ি।
  • বিজেপির দাবি, এটি দলের কেন্দ্রীয় রণনীতিরই একটি অংশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *