‘৯ তারিখের পর বিজয় মিছিল,’ নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর হুঙ্কার; অশান্তি রুখতে রাজ্যজুড়ে হাই-অ্যালার্ট!
ভোট-পরবর্তী রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেই বিজয় মিছিল নিয়ে সরগরম হয়ে উঠেছে বাংলার রাজনীতি। নন্দীগ্রামের বিধায়ক তথা বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী আগামী ৯ মে-র পর কর্মী-সমর্থকদের বিজয় মিছিল করার বার্তা দিয়েছেন। তবে শান্তি বজায় রাখতে এবং সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে রাজ্য পুলিশ ও প্রশাসন প্রতিটি পদক্ষেপের ওপর কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে।
শর্তসাপেক্ষ অনুমতির কড়াকড়ি
নির্বাচন কমিশন এবং রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভোট পরবর্তী পরিস্থিতিতে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারির পর বর্তমানে বিজয় মিছিলের ক্ষেত্রে নিয়ম কিছুটা শিথিল করা হয়েছে। তবে এই ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে সম্পূর্ণ শর্তসাপেক্ষভাবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনশৃঙ্খলা ও শান্তি বজায় রাখার স্বার্থে যেকোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীকে মিছিল বা জমায়েত করার আগে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় থানার লিখিত অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। ৪ মে ফলাফল ঘোষণার দিন বিজয় উৎসবে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ৫ মে থেকে তা নিয়ন্ত্রিত উপায়ে চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর বার্তা ও প্রশাসনিক সতর্কতা
বুধবার নন্দীগ্রামে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘৯ তারিখের পর আপনাদের নিজের এলাকার থানার অনুমতি নিয়ে বিজয় মিছিল করুন। তবে কোনোভাবেই যেন শান্তি বিঘ্নিত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখবেন।’ তাঁর এই বার্তার পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে তৎপরতা শুরু হয়েছে। এদিকে পুলিশ প্রশাসন প্রতিটি থানাকে বিশেষ সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে যাতে অনুমোদিত মিছিলগুলি নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলে।
উত্তেজনা ও সহিংসতার আশঙ্কা
রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ইতিমধ্যে বিচ্ছিন্ন অশান্তির খবর পাওয়া যাচ্ছে। ৫০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং গণনাকেন্দ্রগুলিতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা থাকা সত্ত্বেও ভবানীপুর, ব্যারাকপুর, নোয়াপাড়া এবং যাদবপুরের মতো এলাকায় ভাঙচুর ও হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে। কোথাও দলীয় কার্যালয়ে হামলা, আবার কোথাও প্রার্থীদের লক্ষ্য করে কাদা ছোঁড়ার মতো ঘটনা পরিস্থিতিকে ঘোলাটে করে তুলেছে। বিশেষ করে তারাতলা ও রুবি মোড়ে ভাঙচুরের ঘটনা প্রশাসনের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
প্রশাসনের আশঙ্কা, অবাধ বিজয় মিছিলের অনুমতি দিলে বিরোধী দলগুলোর মধ্যে সংঘাত আরও বাড়তে পারে। এই সম্ভাব্য প্রভাব রুখতেই একদিকে যেমন কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে, অন্যদিকে প্রতিটি রাজনৈতিক কর্মসূচিকে আইনি ও প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যে আনার চেষ্টা চলছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পরবর্তী কয়েক দিন রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখাই এখন পুলিশের প্রধান চ্যালেঞ্জ।