৬৮ বছরে ফের সপ্তম শ্রেণির বেঞ্চে, জাতীয় পুরস্কারজয়ী অভিনেতা ইন্দ্রানসের অবিশ্বাস্য লড়াই! – বর্তমান বাংলা

৬৮ বছরে ফের সপ্তম শ্রেণির বেঞ্চে, জাতীয় পুরস্কারজয়ী অভিনেতা ইন্দ্রানসের অবিশ্বাস্য লড়াই! – বর্তমান বাংলা

বর্তমান ডেস্কঃ

স্বপ্নের কি কোনো নির্দিষ্ট মেয়াদ থাকে? ক্যারিয়ারের শিখরে পৌঁছেও জীবনের অপূর্ণ অধ্যায়টি সম্পূর্ণ করে সেই প্রশ্নেরই জবাব দিলেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রখ্যাত মলয়ালম অভিনেতা কে সুরেন্দ্রন—চলচ্চিত্রজগতে যিনি ‘ইন্দ্রান্স’ নামেই সমধিক পরিচিত।

৬৮ বছর বয়সে কাঁধে স্কুলব্যাগ ঝুলিয়ে সমমান শিক্ষাকোর্সের (Equivalency Education) অধীনে সপ্তম শ্রেণির পরীক্ষায় অংশ নেন ইন্দ্রান্স। সম্প্রতি প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, ৫০০ নম্বরের পরীক্ষায় তিনি ২৯৭ নম্বর (৫৯.৪ শতাংশ) পেয়ে সাফল্যের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছেন।

দর্জির দোকান থেকে রুপোলি পর্দা ছোটবেলায় পড়াশোনায় অত্যন্ত মেধাবী হওয়া সত্ত্বেও তীব্র আর্থিক অনটনের কারণে খুব কম বয়সেই স্কুলের পাঠ চুকাতে বাধ্য হয়েছিলেন সুরেন্দ্রন। সংসারের হাল ধরতে কাকার কাছে সেলাইয়ের কাজ শেখেন এবং ‘ইন্দ্রান্স ব্রাদার্স টেইলার্স’ নামে নিজস্ব দোকান চালু করেন। পোশাক তৈরির কাজ করতেই একসময় মলয়ালম সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে ড্রেস ডিজাইনার হিসেবে সুযোগ পান তিনি। সেটে তাঁর কাজের নিষ্ঠা, উপস্থিত বুদ্ধি ও রসবোধ নজর কাড়ে নির্মাতাদের। সেখান থেকেই খোলে অভিনয়ের দরজা।

কমেডিয়ান থেকে জাতীয় পুরস্কারের চূড়ায় ‘CID Unnikrishnan B.A., B.Ed.’ ছবিতে অভিনয় করে কেরালার ঘরে ঘরে পরিচিতি পান ইন্দ্রান্স। একশোটিরও বেশি ছবিতে অভিনয় করলেও দীর্ঘদিন তিনি শুধুই হাসির চরিত্রে আটকে ছিলেন। অবশেষে ‘আলোরুক্কাম’ সিনেমায় নিখোঁজ মেয়ের বাবার চরিত্রে অভিনয় করে তিনি সবাইকে চমকে দেন এবং সেরা অভিনেতা হিসেবে জিতে নেন কেরালা স্টেট ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড। এরপর ‘হোম’ সিনেমায় অনবদ্য পারফরম্যান্সের জন্য রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হাত থেকে তুলে নেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।

অপূর্ণ স্বপ্নপূরণ খ্যাতি ও অর্থ অর্জনের পর শৈশবের অপূর্ণ শিক্ষাকে সম্পূর্ণ করতেই তিনি ২০২৪ সালে আবার স্কুলে ভর্তি হন। পরীক্ষায় পাশ করার পর এক সাক্ষাৎকারে ইন্দ্রান্স বলেন, “নিরক্ষর হয়ে বেঁচে থাকা অন্ধ থাকার মতোই সমান। আমি চোখ মেলে পুরো পৃথিবীকে নিজের মতো করে দেখতে চেয়েছিলাম।” ৬৮ বছর বয়সে তাঁর এই অদম্য ইচ্ছেশক্তি প্রমাণ করে দিল—শেখার বা স্বপ্ন দেখার কোনো বয়স হয় না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *