৫০০ কোটির সম্পত্তি, ৭ স্ত্রী ও ৫টি রাজপ্রাসাদ! শ্রীরামপুরের ‘ত্রাস’ তৃণমূল কাউন্সিলর উত্তম রায়ের কুকীর্তি ফাঁস
নিজস্ব প্রতিবেদন | শ্রীরামপুর: রাজ্যের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরেই যেন বাঁধ ভাঙা জোয়ার! দুর্নীতি ও জবরদখলের অভিযোগে এবার গণরোষের মুখে শ্রীরামপুর পুরসভার চারবারের দাপুটে তৃণমূল কাউন্সিলর উত্তম রায়। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, রাজনীতির আড়ালে উত্তম রায় গড়ে তুলেছেন ৫০০ কোটির এক বিশাল সাম্রাজ্য।
অভিযোগের পাহাড়: স্থানীয়দের দাবি, উত্তমের জীবনযাত্রা কোনো সিনেমাকেও হার মানায়। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের খতিয়ান শুনলে যে কারও চোখ কপালে উঠতে বাধ্য:
- বিপুল সম্পত্তি: অন্তত ৫০০ কোটি টাকার মালিক তিনি।
- ব্যক্তিগত জীবন: অভিযোগ, এই দাপুটে নেতার সাতজন স্ত্রী রয়েছে।
- রাজপ্রাসাদ: শ্রীরামপুরসহ বিভিন্ন জায়গায় তাঁর পাঁচটি বিলাসবহুল রাজপ্রাসাদ রয়েছে।
- বাণিজ্যিক সাম্রাজ্য: দিঘা থেকে দার্জিলিং—পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে রয়েছে তাঁর একাধিক হোটেল ও লজ।
মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ: দীর্ঘদিন ধরে চলা এই দাপট ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে রবিবার পুরসভার সামনে জড়ো হন সাধারণ মানুষ। কাউন্সিলরের পোস্টারে ডিম ছুড়ে, পোস্টার ছিঁড়ে তাঁরা কড়া শাস্তির দাবি তুলেছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাধারণ মানুষের জমি ও বাড়ি দখল করা ছিল তাঁর নেশা।
কী বলছেন অভিযুক্ত? সব অভিযোগ খারিজ করে উত্তম রায়ের পাল্টা দাবি, “রাজনৈতিক পরিস্থিতির ফায়দা তুলে আমাকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা চলছে। আমার সমস্ত সম্পত্তি ও কাজ আইন মেনেই হয়েছে।” অন্যদিকে, পুরপ্রধান গিরিধারী সাহা জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগ পেলে তবেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশ্লেষকদের মতামত: রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই ‘ত্রাস’-এর বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ স্থানীয় রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলবে। প্রশাসনের ওপর স্বচ্ছ তদন্তের প্রবল চাপ সৃষ্টি হওয়া এখন সময়ের অপেক্ষা। দুর্নীতির এই সাম্রাজ্য কি ভাঙবে? নাকি সব অভিযোগই ধামাচাপা পড়বে? সেই দিকেই এখন তাকিয়ে শ্রীরামপুর।