৪০-৫০টি আসনে ফল কারচুপির অভিযোগ, আইনি লড়াইয়ের পথে তৃণমূল কংগ্রেস
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল জয়ের পর রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠন করলেও, ভোটের ফল মেনে নিতে নারাজ তৃণমূল কংগ্রেস। সোমবার সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর মামলার শুনানি চলাকালীন তৃণমূলের আইনজীবী সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়েছেন, রাজ্যের অন্তত ৪০ থেকে ৫০টি আসনে তাঁরা ‘ইলেকশন পিটিশন’ দাখিল করতে চলেছেন। তৃণমূলের দাবি, সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে বহু কেন্দ্রে গণনার সময় কারচুপি করা হয়েছে এবং জনগণের প্রকৃত রায় প্রতিফলিত হয়নি।
গণনায় কারচুপি ও তৃণমূল নেত্রীকে অপমানের অভিযোগ
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, নির্বাচনের ফল ঘোষণার দিন একাধিক গণনা কেন্দ্রে তৃণমূলের এজেন্টদের জোরপূর্বক বের করে দেওয়া হয়েছে। এমনকি খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও গণনা কেন্দ্র থেকে ‘ঠেলেঠুলে’ বের করে দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তিনি। কল্যাণের দাবি, “যেখানে তৃণমূল ৪-৫ হাজার ভোটে এগিয়ে ছিল, সেখানে এজেন্টদের মেরেধরে বের করে দিয়ে ফল বদলে দেওয়া হয়েছে।” বিশেষ করে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরের মতো হাই-ভোল্টেজ আসনগুলোতে পরিকল্পিতভাবে কারচুপি করা হয়েছে বলে তৃণমূল শিবিরের অভিযোগ।
সুপ্রিম কোর্টে আইনি তৎপরতা ও পরবর্তী পদক্ষেপ
শীর্ষ আদালত এই বিষয়ে তৃণমূলকে ইন্টারলোকিউটরি অ্যাপ্লিকেশন (IA) জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। কল্যাণের মতে, ১০০টিরও বেশি আসনে তাঁদের জোর করে হারানো হয়েছে, যার মধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ে ৪০-৫০টি আসনে আইনি চ্যালেঞ্জ জানানো হবে। তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, গণনার সময় কেন ভেতরের সিসিটিভি ফুটেজ বাইরে দেখানো হলো না বা সংবাদমাধ্যমকে কেন অবাধ প্রবেশাধিকার দেওয়া হলো না। এই অস্বচ্ছতাই প্রমান করে যে ভোটের ফলের পেছনে প্রশাসনিক কারসাজি রয়েছে।
লড়াই জারি রাখার বার্তা ও বামেদের নিশানা
১৫ বছর পর ক্ষমতায় চ্যুত হলেও হাল ছাড়তে নারাজ ঘাসফুল শিবির। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তাঁরা লড়াই করেই আবার ক্ষমতায় ফিরে আসবেন। এদিন তিনি সিপিএম ও আইএসএফ-কেও তীব্র আক্রমণ করেন। তাঁর দাবি, বামেরা বিজেপির সঙ্গে আঁতাত করে তৃণমূলের ভোট কেটেছে। অন্যদিকে, নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ সহ সামাজিক প্রকল্পগুলো চালু রাখার সিদ্ধান্তকে কটাক্ষ করে কল্যাণ বলেন, “এর মাধ্যমেই প্রমাণিত হলো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকল্পগুলি কতটা জনকল্যাণকর ছিল।” সব মিলিয়ে, পরাজয় পরবর্তী সময়ে ময়দান ছেড়ে না দিয়ে আইনি ও রাজনৈতিক উভয় পথেই লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে তৃণমূল।