২৬ বছর পর সুবিচারা য়ে আইআরএস কর্মকর্তা, সিবিআইয়ের যুগ্ম পরিচালক দোষী!
দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর দুই সিবিআই কর্মকর্তার কারাদণ্ড
দিল্লির তিস হাজারি আদালত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা এক আইনি লড়াইয়ের পর সিবিআইয়ের বর্তমান যুগ্ম পরিচালক রমণীশ এবং অবসরপ্রাপ্ত এসিপি ভিকে পান্ডেকে ২০০০ সালে এক আইআরএস কর্মকর্তার বাসভবনে অবৈধ প্রবেশ ও মারধরের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছে। বিচারক শশাঙ্ক নন্দন ভাট এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেছেন। ভারতীয় বিচারব্যবস্থায় উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতার এটি একটি বিরল দৃষ্টান্ত বলে বিবেচিত হচ্ছে।
আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে যে, ২০০০ সালের ১৯ অক্টোবর তৎকালীন এসপি রমণীশ এবং পরিদর্শক ভিকে পান্ডে আইআরএস কর্মকর্তা অশোক কুমার আগরওয়ালের বাড়িতে যে অভিযান চালিয়েছিলেন, তা ছিল সম্পূর্ণ বেআইনি এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সেন্ট্রাল অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইব্যুনাল (ক্যাট) কর্তৃক ওই কর্মকর্তার সাময়িক বরখাস্তের আদেশ পর্যালোচনার নির্দেশকে নস্যাৎ করতেই এই পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র ও গ্রেফতারি চালানো হয়েছিল। ক্ষমতার অপব্যবহার করে একজন সরকারি কর্মকর্তার সম্মানহানি ও শারীরিক হেনস্থার বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
বর্তমানে গুয়াহাটিতে কর্মরত এবং রাষ্ট্রপতি পদকপ্রাপ্ত সিবিআই কর্মকর্তা রমণীশ ও তার সহযোগীর বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ এবং আঘাত করার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এই রায়ের ফলে এটি স্পষ্ট যে, তদন্তকারী সংস্থার কোনো পদমর্যাদাই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। দীর্ঘ ২৬ বছর পর আসা এই রায় তদন্তকারী কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হওয়ার এবং আইন মেনে চলার শক্তিশালী বার্তা প্রদান করল।