২০ লাখ বছরের পুরনো বরফ গলা জল খেয়ে বিপাকে পর্যটক
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার নেশা বা নিছক কৌতূহল মানুষের জন্য কতটা প্রাণঘাতী হতে পারে, তার এক জ্বলন্ত উদাহরণ সৃষ্টি হলো সম্প্রতি। আলাস্কার একটি হিমবাহ পরিদর্শনে গিয়ে এক পর্যটক সেখান থেকে গ্লাস ভরে স্বচ্ছ জল পান করেন। আপাতদৃষ্টিতে স্ফটিকের মতো স্বচ্ছ মনে হলেও ওই জল ছিল প্রায় ২০ লাখ বছরের পুরনো। এই ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হতেই জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং একে ‘বিপজ্জনক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
প্রাচীন জীবাণুর ঝুঁকি ও স্বাস্থ্যঝুঁকি
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, হিমবাহের গভীরে আটকে থাকা জল আসলে একটি জীবন্ত ‘টাইম ক্যাপসুল’। কয়েক লাখ বছর ধরে এই বরফের স্তরে এমন সব ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস এবং পরজীবী সুপ্ত অবস্থায় থাকে, যেগুলোর সঙ্গে বর্তমান বিশ্বের মানুষের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউন সিস্টেম পরিচিত নয়। তিব্বত বা অ্যান্টার্কটিকার হিমবাহগুলোতে গবেষণায় এমন হাজারো অণুজীব পাওয়া গেছে, যা কয়েক হাজার বছর ধরে অক্সিজেন ছাড়াই বেঁচে থাকতে সক্ষম। এই ধরনের জল পান করার ফলে মানবদেহে এমন সব অজানা সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হয়, যা আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের নাগালের বাইরে হতে পারে।
হিমবাহের এই দূষিত জল পেটে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির তীব্র পেটে ব্যথা ও অস্বস্তি শুরু হয়। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, গিয়ার্ডিয়া বা ক্রিপ্টোস্পোরিডিয়ামের মতো প্রাচীন পরজীবী শরীরে প্রবেশ করলে তা মারাত্মক ডায়রিয়া, বমি এবং পানিশূন্যতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে হিমবাহের আশেপাশে থাকা বন্যপ্রাণীর মলমূত্র বা কয়েক মিলিয়ন বছরের পুরনো দূষণ এই জলকে বিষাক্ত করে তোলে। পর্যটকদের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের সময় এই ধরনের হঠকারী সিদ্ধান্ত থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন ডাক্তাররা।
এক ঝলকে
- আলাস্কার হিমবাহে ২০ লাখ বছরের পুরনো বরফ গলা জল পান করে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এক পর্যটক।
- হিমবাহের স্বচ্ছ জলে সুপ্ত অবস্থায় থাকা প্রাচীন ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
- এই ধরনের প্রাচীন জীবাণুর সঙ্গে আমাদের ইমিউন সিস্টেম পরিচিত না হওয়ায় তা মারাত্মক সংক্রমণের কারণ হতে পারে।
- বিশেষজ্ঞরা হিমবাহের জলকে সরাসরি পান না করার জন্য পর্যটকদের প্রতি বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করেছেন।