২০১১-র স্মৃতি ফেরাল ২০২৬! তৃণমূলের পার্টি অফিস দখল করে গেরুয়া পতাকা ওড়ালেন বিজেপি কর্মীরা

বাঁকুড়া: বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল আসার আগেই বাঁকুড়ায় শুরু হয়ে গেল পার্টি অফিস দখলের রাজনীতি। ২০১১ সালে বামফ্রন্টের পতনের সময় যেভাবে তৃণমূল কর্মীরা জেলাজুড়ে সিপিএম-এর পার্টি অফিস দখল করেছিল, আজ ঠিক সেই একই ছবি ধরা পড়ল কোতুলপুরে। খিরি গ্রামে তৃণমূলের একটি দলীয় কার্যালয় দখল করে সেখানে গেরুয়া পতাকা উড়িয়ে দিলেন উত্তেজিত বিজেপি সমর্থকেরা।

খিরি গ্রামে রাজনৈতিক উত্তাপ

বাঁকুড়া জেলায় সকাল থেকেই গণনার ট্রেন্ড বিজেপির পক্ষে যেতেই মাঠের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে শুরু করে। কোতুলপুরের খিরি গ্রামে তৃণমূলের পার্টি অফিসের সামনে ভিড় জমাতে শুরু করেন বিজেপি কর্মীরা। এরপর কার্যালয়ের ভেতর থেকে তৃণমূলের ব্যানার-ফেস্টুন সরিয়ে দিয়ে সেখানে বিজেপির পতাকা লাগিয়ে দেওয়া হয়। উপস্থিত কর্মীদের দাবি, “মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছে, তাই এই দখলদারি কেবল সময়ের অপেক্ষা ছিল।”

দিল্লি থেকে বাঁকুড়া—উচ্ছ্বাসে গেরুয়া শিবির

কেবল বাঁকুড়া নয়, গণনার ট্রেন্ড আসতেই দিল্লির বিজেপি সদর দফতরেও উৎসবের আমেজ শুরু হয়ে গিয়েছে। আবির খেলা আর স্লোগানে মুখর হয়ে উঠেছেন গেরুয়া সমর্থকেরা। তাঁদের মতে, বাংলার এই ফলাফল স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে বিজেপি বড় জয়ের পথে এগিয়ে চলেছে। খিরি গ্রামের এই ঘটনাকে তাঁরা ‘পরিবর্তনের সূচনা’ এবং তৃণমূলের দীর্ঘ শাসনের অবসান হিসেবেই দেখছেন।

২০১১-র ছায়া ২০২৬-এ

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ছবি বাংলার দীর্ঘদিনের ‘দখলদারির রাজনীতি’রই প্রতিফলন। ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর তৃণমূল কর্মীরা যেভাবে জেলাজুড়ে বিরোধী শিবিরের ওপর আধিপত্য কায়েম করেছিল, আজ অনেক জায়গাতেই বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে সেই একই প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে বাঁকুড়ার মতো জেলাগুলোতে যেখানে বিজেপির দাপট অনেক বেশি, সেখানে এই ধরণের আধিপত্য বিস্তারের ঘটনা প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রতিবেদক: বর্তমান ঠাকুর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *