১৯ দিনে ৪ মিসাইল! জাপান-দক্ষিণ কোরিয়া কাঁপছে, যুদ্ধ কি আসছে?
উত্তর কোরিয়ার বারবার ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণে এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা
উত্তর কোরিয়ার পূর্ব উপকূলীয় শহর সিনপো থেকে রবিবার সকালে ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনায় এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আবারও রণক্ষেত্রের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। চলতি বছরে এটি কিম জং উনের বাহিনীর সপ্তম ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা, যার মধ্যে শুধুমাত্র এপ্রিল মাসেই চারটি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। এই ধারাবাহিক উস্কানিমূলক পদক্ষেপে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে এবং দেশজুড়ে উচ্চ সতর্কতা বা হাই অ্যালার্ট জারি করেছে।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন এবং অবিলম্বে জরুরি বৈঠক ডেকেছেন। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ভোর ৬টা নাগাদ উৎক্ষেপণ করা হয় এবং সেগুলো জাপানের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের (EEZ) বাইরে আছড়ে পড়ে। যদিও কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি, তবুও সমুদ্র ও আকাশপথের নিরাপত্তার জন্য কঠোর নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। অন্যদিকে, দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কিমের প্রতিটি গতিবিধির উপর কড়া নজরদারি শুরু করেছে।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী মাসে চীন ও মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রস্তাবিত বৈঠকের আগে নিজস্ব সামরিক সক্ষমতা জাহির করতেই কিম জং উন এই পথ বেছে নিয়েছেন। রাষ্ট্রপুঞ্জের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বারবার শক্তি প্রদর্শন করে পিয়ংইয়ং কার্যত বিশ্বকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাও (IAEA) সতর্ক করেছে যে, উত্তর কোরিয়া বর্তমানে নিজেদের একটি পূর্ণাঙ্গ ‘পরমাণু শক্তি’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে মরিয়া, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।