সীমান্তে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা! ৪৫ দিনের মধ্যে জমি হস্তান্তরের ঐতিহাসিক ঘোষণা শুভেন্দু সরকারের
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সীমান্ত সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বড়সড় পদক্ষেপ নিল রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার। সোমবার প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছেন, বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জমি আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়া হবে। অবৈধ অনুপ্রবেশ ও আন্তঃসীমান্ত চোরাচালান সম্পূর্ণ বন্ধ করতে এই সিদ্ধান্ত এক মাইলফলক হতে চলেছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
যুদ্ধকালীন তৎপরতায় জমি জরিপ ও সমীক্ষা
মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে শুরু হয়ে গেছে প্রশাসনিক তৎপরতা। বসিরহাট পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার অলকানন্দা ভৌমিক বিএসএফ আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে স্বরূপনগর থেকে হিঙ্গলগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ৯৬ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, বসিরহাটের প্রায় ২০ কিলোমিটার স্থলসীমান্তে এখনও কোনো বেড়া নেই। শুধু বসিরহাট নয়, নদীয়া, মুর্শিদাবাদ ও মালদার মতো স্পর্শকাতর জেলাগুলোতেও দ্রুত রিপোর্ট তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অনুপ্রবেশ রুখতে আসছে ‘স্মার্ট ফেন্সিং’
আগের সরকারের আমলে জমি জটে আটকে থাকা সীমান্ত সুরক্ষা প্রকল্পে এবার যুক্ত হচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে পুরনো কাঁটাতারের বদলে বসানো হবে ১২ ফুট উঁচু বিশেষ ইস্পাতের জাল, যা সহজে কাটা বা টপকে যাওয়া সম্ভব নয়। এই ‘স্মার্ট ফেন্সিং’ ব্যবস্থায় হাই-টেক নজরদারি ক্যামেরা ও সেন্সর ব্যবহার করা হবে। বিএসএফ-এর মতে, এই আধুনিক পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তি কার্যকর হলে দুর্গম এলাকাগুলোতেও নজরদারি চালানো সহজ হবে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও প্রভাব
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের ২,২১৬.৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা নতুন সরকারের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। বিজেপির অভিযোগ ছিল, পূর্বতন তৃণমূল সরকারের অসহযোগিতার কারণেই সীমান্তে বেড়া দেওয়ার কাজ থমকে ছিল। বর্তমান সরকারের এই দ্রুত সিদ্ধান্ত একদিকে যেমন জাতীয় নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করবে, তেমনই কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের সমন্বয়কে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। আগামী দেড় মাসের মধ্যে জমি হস্তান্তরের এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে বাংলার সীমান্ত সুরক্ষা ব্যবস্থার মানচিত্র আমূল বদলে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।