সাত দিন রেইকি শেষে সুপারি কিলারের গুলিতে ঝাঁঝরা চন্দ্রনাথ! নেপথ্যে গভীর ষড়যন্ত্র?
বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দীর্ঘদিনের আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। বুধবার রাতে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামের গোহাড়িয়ায় বাড়ির অদূরেই তাঁকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, কোনো পেশাদার ‘সুপারি কিলার’ দল এই অপারেশনের নেপথ্যে রয়েছে। ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে ইতিমধ্যেই এসটিএফ, সিআইডি এবং আইবি-কে নিয়ে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হয়েছে।
পরিকল্পিত রেইকি ও অপারেশন
তদন্তে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। ঘাতকরা গত এক সপ্তাহ ধরে চন্দ্রনাথ রথের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ বা ‘রেইকি’ করেছিল। তাঁর প্রাত্যহিক রুটিন এবং যাতায়াতের পথ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পরেই বুধবারের বৃষ্টিভেজা রাতকে হামলার জন্য বেছে নেওয়া হয়। বাইকে করে এসে আততায়ীরা তাঁর গাড়ি থামিয়ে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি চালায়। একটি গুলি তাঁর হৃৎপিণ্ড ভেদ করে যায় এবং মাথা ও পেটেও গুরুতর আঘাত লাগে। হামলায় চন্দ্রনাথের গাড়িচালক বুদ্ধদেব বেরাও গুলিবিদ্ধ হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
পেশাদার খুনি ও ভিনরাজ্য যোগ
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এই হত্যাকাণ্ডে ভিনরাজ্যের ভাড়াটে খুনিদের ব্যবহার করা হয়েছে। হামলার পর অপরাধীরা যাতে দ্রুত শহর ছাড়তে পারে, সেই পরিকল্পনাও আগে থেকে করা ছিল বলে মনে করা হচ্ছে। সন্দেহভাজনরা দমদম বিমানবন্দর ব্যবহার করে পালিয়ে থাকতে পারে, এই আশঙ্কায় বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এমনকি হামলায় ব্যবহৃত গাড়িটির নম্বর প্লেটটিও ভুয়া বলে জানা গিয়েছে; আসল গাড়িটি শিলিগুড়ির এক বাসিন্দার নামে নথিভুক্ত।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও প্রভাব
প্রাক্তন সেনাকর্মী চন্দ্রনাথ রথ সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত না থাকলেও শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিরোধী দলনেতার দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই তাঁর সহায়ককে প্রাণ দিতে হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন চিহ্ন দেখা দিয়েছে। তদন্তকারীরা বর্তমানে সিসিটিভি ফুটেজ এবং টাওয়ার ডাম্পিংয়ের মাধ্যমে অপরাধীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করছেন। ঘটনার মোটিভ স্পষ্ট না হলেও এটি যে একটি সুপরিকল্পিত ‘কন্ট্রাক্ট কিলিং’, সে বিষয়ে প্রায় নিশ্চিত প্রশাসন।