শুভেন্দুর জয় মেনে নিতে না পেরেই খুন চন্দ্রনাথ, বিস্ফোরক অভিযোগ শুভেন্দুর

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরের মতো হাই-ভোল্টেজ কেন্দ্রে শুভেন্দু অধিকারীর জয় ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। এই জয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই তাঁর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের আকস্মিক মৃত্যুতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তুললেন বিদায়ী বিরোধী দলনেতা। শুভেন্দুর দাবি, ভবানীপুর ও নন্দীগ্রামে তাঁর সাফল্য সহ্য করতে না পেরে পরিকল্পিতভাবে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে খুন করা হয়েছে চন্দ্রনাথকে।

তদন্তে বিশেষ সিট এবং রাজনৈতিক তৎপরতা

মধ্যমগ্রামের দোহারিয়ার শৈলেশনগরে বুধবার রাতে চন্দ্রনাথ রথকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে রাজ্য পুলিশ ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করেছে, যেখানে সিআইডি আধিকারিকদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বারাসত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের সময় উপস্থিত হয়ে শুভেন্দু অধিকারী জানান, ভবানীপুর কেন্দ্রের সাংগঠনিক দায়িত্বে ছিলেন চন্দ্রনাথ। ওই আসনে বিজেপির জয়ই তাঁর মৃত্যুর প্রধান কারণ বলে তিনি মনে করছেন। ঘটনার পর কেন্দ্রীয় নেতা নীতিন নবীন ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ফোনে শুভেন্দুর সঙ্গে কথা বলেছেন।

পরিকল্পিত রেইকি ও অপরাধের ধরণ

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, এই হত্যাকাণ্ডটি যথেষ্ট পেশাদারিত্বের সঙ্গে ঘটানো হয়েছে। যে সরু গলিতে চন্দ্রনাথকে টার্গেট করা হয়েছিল, সেখানে আগে থেকেই রেইকি করা হয়েছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজে একটি স্টিল কালারের গাড়ির উপস্থিতি মিলেছে, যেটিতে শিলিগুড়ির ভুয়ো নম্বর প্লেট ব্যবহার করা হয়েছিল। অপরাধীরা গাড়িটি ঘটনাস্থলেই ফেলে রেখে চম্পট দেয়।

রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ঘটনার ফলে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বিষয়টি পুনরায় বিতর্কের কেন্দ্রে চলে এল। শুভেন্দু অধিকারী রাজ্য পুলিশের ওপর আস্থা রাখার কথা জানালেও, এই খুনের নেপথ্যে থাকা প্রকৃত ষড়যন্ত্রকারী কারা, তা খুঁজে বের করাই এখন প্রশাসনের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। পুলিশ ইতিমধ্যেই কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *