শাড়ি পরা ট্রাম্পের ক্ষমতার নেশা দু’দিনেই কেটে যাবে! ইস্তফা বিতর্কে মমতাকে দিলীপের তীব্র কটাক্ষ

রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে অভাবনীয় জয়ের পর গেরুয়া শিবিরে এখন উৎসবের আমেজ। দুই শতাধিক আসনে জিতে বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও, বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইস্তফা না দেওয়ার অনড় অবস্থান এক নজিরবিহীন সাংবিধানিক জটিলতা তৈরি করেছে। এই প্রেক্ষাপটে তৃণমূল নেত্রীকে সরাসরি আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তুলনা করে বিদ্রূপ করেছেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ।

তীব্র আক্রমণ ও ব্যক্তিগত কটাক্ষ

বুধবার সকালে কলকাতার ইকো পার্কে প্রাতঃভ্রমণ চলাকালীন দিলীপ ঘোষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ না করার সিদ্ধান্তকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, “উনি শাড়ি পরা ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প যেমন বলেছিলেন আমি হারিনি, ওঁর অবস্থাও এখন ঠিক তেমন।” দিলীপের দাবি, জনগণের রায় বা পাবলিক ম্যান্ডেটকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অসম্মান করছেন। তিনি আরও যোগ করেন যে, পরাজয়ের গ্লানি ঢাকতে কারচুপির অভিযোগ তুললেও আগামী দু’দিনের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষমতার নেশা কেটে যাবে এবং শেষ পর্যন্ত তাঁকে কালীঘাটেই ফিরে যেতে হবে।

আসন্ন সাংবিধানিক সংকট ও রাজ্যপালের ভূমিকা

নির্বাচনী ফলাফলের পর নিয়ম অনুযায়ী বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর রাজ্যপালের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার কথা থাকলেও, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন তিনি হারেননি এবং ১০০টির বেশি আসনে কারচুপি হয়েছে। বর্তমান বিধানসভার মেয়াদ ৭ মে শেষ হতে চলায় এই অনড় অবস্থান রাজ্যকে এক গভীর সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মুখ্যমন্ত্রী স্বেচ্ছায় ইস্তফা না দিলে সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী রাজ্যপাল সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারেন। রাজ্যপাল চাইলে অধ্যাদেশ জারি করে বিদায়ী সরকারকে বরখাস্ত করতে পারেন অথবা বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের নির্দেশ দিতে পারেন। তবে পরিস্থিতি আরও জটিল হলে সংবিধানের ৩৫৬ ধারা অনুযায়ী রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির সুপারিশ করার ক্ষমতাও রাজভবনের হাতে রয়েছে। মমতার এই জেদ শেষ পর্যন্ত রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোকে কোন পথে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *