লুইজিয়ানায় প্রাক্তন সেনার তাণ্ডবে সাত সন্তানসহ ৮ শিশুর মৃত্যু!
আমেরিকার লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের শ্রীভপোর্ট শহরে এক ভয়াবহ বন্দুক হামলায় অন্তত আটটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যাদের বয়স ১ থেকে ১২ বছরের মধ্যে। গত ১৯ এপ্রিল রবিবার ভোরে দুটি পৃথক বাড়িতে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডটি ঘটে। ঘাতক হিসেবে চিহ্নিত ৩১ বছর বয়সী প্রাক্তন মার্কিন সেনা শমার এলকিন্স পুলিশের সাথে সংঘর্ষে নিহত হয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি গত আড়াই বছরের মধ্যে আমেরিকায় ঘটে যাওয়া অন্যতম বড় গণ-হত্যাকাণ্ড হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পারিবারিক বিবাদ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, পারিবারিক কলহের জের ধরেই এই নৃশংসতা চালিয়েছেন এলকিন্স। তিনি প্রথমে শ্রীভপোর্টের দক্ষিণাঞ্চলের একটি বাড়িতে এক নারীকে লক্ষ্য করে গুলি চালান এবং পরবর্তীতে অন্য একটি বাড়িতে গিয়ে সেখানে থাকা শিশুদের ওপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করেন। নিহত আটটি শিশুর মধ্যে সাতজনই ঘাতকের নিজের সন্তান বলে জানা গেছে। পালানোর সময় একটি শিশুর নিথর দেহ বাড়ির দোতলায় পড়ে থাকতে দেখেন পুলিশ সদস্যরা। হামলায় দুই নারী গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
বন্দুক সহিংসতা ও পরবর্তী তদন্ত
হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পর এলকিন্স একটি গাড়ি ছিনতাই করে পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। একপর্যায়ে পুলিশের গুলিতে তিনি প্রাণ হারান। রেকর্ড অনুযায়ী, ২০১৯ সালে অস্ত্র সংক্রান্ত একটি মামলায় তিনি আগে গ্রেফতার হয়েছিলেন, তবে সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতার কোনো অভিযোগ ছিল না। এই ঘটনাটি ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে শিকাগোর হত্যাকাণ্ডের পর যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বড় বন্দুক হামলার ঘটনা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে।
এক ঝলকে
- লুইজিয়ানায় প্রাক্তন মার্কিন সেনার গুলিতে ৮ শিশুর মৃত্যু, যাদের মধ্যে ৭ জনই ঘাতকের নিজের সন্তান।
- পারিবারিক কলহের জেরে দুটি পৃথক বাড়িতে এই বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়।
- পালানোর সময় পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে ঘাতক শমার এলকিন্স নিহত হয়েছে।
- এই ঘটনায় আহত দুই নারীর মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।