লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ভবিষ্যৎ নিয়ে দোলাচল, মে মাসে কি থমকে যাবে ভাতার টাকা
২০২৬ সালের ৪ঠা মে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন রাজ্যজুড়ে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেসকে সরিয়ে বিজেপির জয়লাভের পর কোটি কোটি মহিলার মনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন— ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের ভবিষ্যৎ কী? বিশেষ করে চলতি মে মাসেই অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা।
সাধারণত প্রতি মাসের প্রথম সপ্তাহেই এই প্রকল্পের টাকা উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যায়। তবে এবারের চিত্রটা ভিন্ন। ৪ঠা মে নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণা এবং পরবর্তী প্রশাসনিক রদবদলের কারণে প্রক্রিয়ায় সাময়িক স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। নবনির্বাচিত সরকার গঠন ও শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের মতো আনুষ্ঠানিকতায় কিছুটা সময় প্রয়োজন। ফলে মে মাসের ভাতা সময়মতো পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় কাটছে না।
পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ ও ৩,০০০ টাকার প্রতিশ্রুতি
বিজেপি তাদের নির্বাচনী ইস্তাহারে স্পষ্ট জানিয়েছিল যে, তারা ক্ষমতায় এলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পরিবর্তে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্প চালু করবে। যেখানে সাধারণ ও সংরক্ষিত—সব শ্রেণির মহিলাদের জন্য মাসিক ভাতার পরিমাণ বাড়িয়ে ৩,০০০ টাকা করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তৃণমূল সরকারের অধীনে সাধারণ ও ওবিসি শ্রেণির মহিলারা ১,৫০০ টাকা এবং তপশিলি জাতি ও উপজাতি শ্রেণির মহিলারা ১,৭০০ টাকা করে পাচ্ছেন। ফলে নতুন সরকার আসার সাথে সাথে এই ভাতার পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও, সেই প্রক্রিয়া কবে শুরু হবে তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট কোনও নির্দেশিকা আসেনি।
প্রশাসনিক জটিলতা ও সম্ভাব্য প্রভাব
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকার পরিবর্তনের ফলে পুরনো ডেটাবেস যাচাইকরণ এবং নতুন প্রকল্পের নিয়মাবলি তৈরি করতে কিছুটা সময় ব্যয় হবে। এর ফলে মে মাসের মাঝামাঝি বা শেষ পর্যন্ত টাকা পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে উপভোক্তাদের। অনেক জায়গায় ইতিমধ্যে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’-এর ফর্ম বিলি হওয়ার খবর মিললেও, নতুন করে আবেদন করতে হবে নাকি পুরনো তালিকার ভিত্তিতেই টাকা দেওয়া হবে, তা এখনও রহস্যের আবরণে ঢাকা। লক্ষ লক্ষ মহিলার মাসিক বাজেটে এই ভাতা একটি বড় ভূমিকা রাখে, তাই এই অনিশ্চয়তা সরাসরি গ্রামীণ ও শহরতলির জনজীবনে প্রভাব ফেলছে। সরকারের চূড়ান্ত ঘোষণার দিকেই এখন তাকিয়ে আছেন রাজ্যের মা-বোনেরা।