‘রাত ২টো বাজলেও কেন্দ্র ছাড়বেন না’, ইভিএম ব্যাটারি থেকে লোডশেডিং— গণনার আগে এজেন্টদের কড়া দাওয়াই মমতা-অভিষেকের
“জিতছি আমরা, জিতব আমরা! কাউন্টিং-হলে খেলা হবে।”—আগামীকাল সোমবার, ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার আগে এই দৃপ্ত সুরেই কর্মীদের ভোকাল টনিক দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এক্সিট পোলকে সম্পূর্ণ নস্যাৎ করে দিয়ে দলীয় এজেন্টদের প্রতি তাঁর স্পষ্ট বার্তা, অভ্যন্তরীণ সমীক্ষার ভিত্তিতে ২০০-র বেশি আসন নিয়ে ক্ষমতায় ফিরছে তৃণমূলই। শনিবার এক ভার্চুয়াল বৈঠকে মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় গণনার দিনের জন্য একগুচ্ছ কড়া নির্দেশিকা বেঁধে দিয়েছেন।
‘রাত ২টো বাজলেও ধৈর্য ধরতে হবে’
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কাউন্টিং এজেন্টদের নির্দেশ দিয়েছেন, সোমবার ভোর পাঁচটা থেকে সাড়ে পাঁচটার মধ্যে গণনাকেন্দ্রে পৌঁছে যেতে হবে। কমিশনের ধীরগতির গণনার পরিকল্পনার আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি জানান, চূড়ান্ত শংসাপত্র হাতে পেতে রাত ২টো বেজে গেলেও কেউ যেন কেন্দ্র না ছাড়েন। সতর্কতা হিসেবে বাইরের কারও দেওয়া জল বা খাবার খেতেও কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন তিনি। শৌচালয়ে যাওয়ার প্রয়োজন হলে অন্য বিশ্বস্ত কাউকে টেবিলের পাহারায় রেখে দ্রুত ফিরে আসতে বলা হয়েছে।
ইভিএম কারচুপি রুখতে ‘ব্যাটারি’ ও ‘লোডশেডিং’ তত্ত্ব
ইভিএম কারচুপি নিয়ে দলের দীর্ঘদিনের আশঙ্কা এবারও প্রকাশ পেয়েছে বৈঠকে। মমতা এজেন্টদের সতর্ক করে বলেন, “গণনাকেন্দ্রে ১০ সেকেন্ডের জন্য লোডশেডিং হলেও ওরা ৫০টা মেশিন পাল্টে দিতে পারে।” প্রাপ্ত ভোটের তথ্য ডেটা এন্ট্রি অপারেটররা যাতে সঠিকভাবে কম্পিউটারে নথিভুক্ত করেন, সেদিকে কড়া নজর রাখতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এক তাৎপর্যপূর্ণ কৌশল বাতলে দেন। তিনি জানান, কোনও ইভিএম-এ যদি দেখা যায় ব্যাটারি ৭০ শতাংশের বেশি চার্জ রয়েছে, তবে সন্দেহ করতে হবে সেটি নতুন বা পাল্টানো মেশিন। সেক্ষেত্রে তৎক্ষণাৎ ভিভিপ্যাট (VVPAT) মেলানোর জোরালো দাবি জানাতে হবে।
ভিড় জমানো ও পুনর্গণনার নির্দেশ
গণনাকেন্দ্রের বাইরে ছাত্র-যুব, মহিলা ও শ্রমিক সংগঠন মিলিয়ে চার-পাঁচ হাজার কর্মীর জমায়েত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন অভিষেক। কেন্দ্রীয় বাহিনী কোনও এজেন্টকে হেনস্থা করলে বা বসতে বাধা দিলে সঙ্গে সঙ্গে শীর্ষ নেতৃত্বকে জানাতে হবে। এছাড়া, মমতা স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোনও বুথে যদি ৩০০ বা ৫০০ ভোটের ব্যবধান দেখা যায় অথবা বিজেপিকে জিতিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়, তবে সঙ্গে সঙ্গে পুনর্গণনার দাবি তুলতে হবে।
নজরদারি ও কর্মীদের পুরস্কার
গোটা গণনা প্রক্রিয়া কালীঘাট এবং ক্যামাক স্ট্রিটের কার্যালয় থেকে সরাসরি নজরদারি করা হবে। জেলায় জেলায় খোলা হয়েছে বিশেষ ওয়ার রুম। রাজ্যস্তর থেকেও জেলাগুলোতে পর্যবেক্ষক পাঠানো হচ্ছে; যেমন, দমদম-ব্যারাকপুরের মতো স্পর্শকাতর এলাকায় নজরদারির দায়িত্বে থাকছেন সাংসদ তথা প্রাক্তন পুলিশ কর্তা রাজীব কুমার। বৈঠকের শেষে মমতা ঘোষণা করেন, কঠিন এই ভোটযুদ্ধে যাঁরা দলের হয়ে মার খেয়েছেন তাঁদের পুরস্কৃত করা হবে। আর যাঁরা বাংলার মানুষের ওপর অত্যাচার চালিয়েছে, ফল ঘোষণার পর আইনি পথে তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিবেদক: স্বাধীন মানব দাস।