মোদী’র গুরুতর অভিযোগ বিরোধীদের বিরুদ্ধে! ক্ষমা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী, দেশবাসী হতবাক!

নারী সংরক্ষণ বিল লোকসভায় পাশ করাতে ব্যর্থ, কেন্দ্র-বিরোধীর সংঘাত

কেন্দ্র সরকারের আনা ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল লোকসভায় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় পাশ হতে ব্যর্থ হয়েছে। এই ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এক টেলিভিশন ভাষণে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি ও ডিএমকে-কে ‘মহিলাদের অধিকারের ভ্রূণহত্যা’ করার দায়ে অভিযুক্ত করেছেন। তিনি দেশবাসীর কাছে, বিশেষ করে নারী সমাজের কাছে, এই ব্যর্থতার জন্য ক্ষমা প্রার্থনাও করেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে সরাসরি অভিযোগ করেন যে, তৃণমূল ও সমাজবাদী পার্টি মহিলাদের এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার এই সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করেছে। নির্বাচনী পরিস্থিতিতে এই আক্রমণ পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষিতে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়মের অধীনে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে ৫২৮ জন সাংসদের উপস্থিতিতে বিলের পক্ষে ২৯৮ এবং বিপক্ষে ২৩০টি ভোট পড়ায় সংবিধান সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন অর্জিত হয়নি। বিরোধীদের অভিযোগ, জনগণনা ও আসন পুনর্বিন্যাসকে সংরক্ষণের সাথে যুক্ত করে কেন্দ্র মূলত দক্ষিণ ভারতের প্রভাব খর্ব করে উত্তর ভারতে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করতে চাইছে। বিল পাশের এই ব্যর্থতার রেশ ছড়িয়ে পড়ে রাজপথেও, যেখানে বিজেপির মহিলা সাংসদরা রাহুল গান্ধীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছেন, মহিলারা এই ‘অপমান’ ভুলবেন না। তবে বিরোধীরা অনড় থেকে দাবি করেছেন যে, নির্দিষ্ট কোনো রোডম্যাপ ছাড়াই আসন বাড়ানোর প্রস্তাব এনে সরকার রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে চেয়েছিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *