মোদীর কনভয়ে বড় রদবদল, তেলের খরচ কমাতে গাড়ির সংখ্যা হচ্ছে অর্ধেক!

মোদীর কনভয়ে বড় রদবদল, তেলের খরচ কমাতে গাড়ির সংখ্যা হচ্ছে অর্ধেক!

প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় ব্যবহৃত বিশাল গাড়িবহর বা কনভয় নিয়ে নতুন এক চাঞ্চল্যকর সিদ্ধান্তের কথা জানা গেছে। পরিবেশ সুরক্ষা ও জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানোর লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর কনভয়ের গাড়ির সংখ্যা বর্তমানের তুলনায় অর্ধেক করার নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে পেট্রোল ও ডিজেলচালিত যানের পরিবর্তে বৈদ্যুতিক যানবাহন বা ইভি অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই ব্যক্তিগত উদ্যোগ প্রশাসনের উচ্চস্তরে পরিবেশ সচেতনতার এক বড় বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নিরাপত্তা বলয় ও গাড়ির বহর

সাধারণত প্রধানমন্ত্রীর সুরক্ষায় এসপিজি (স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপ) এবং রাজ্য পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ করে। প্রোটোকল অনুযায়ী মোদীর কনভয়ে সাধারণত ১৩ থেকে ১৭টি গাড়ি থাকে। তবে সফর এবং নিরাপত্তা ঝুঁকির ওপর ভিত্তি করে এই সংখ্যা কখনও আরও বৃদ্ধি পায়। এই বহরে থাকে অত্যাধুনিক রেঞ্জ রোভারের মতো বুলেটপ্রুফ এসইউভি, জ্যামার সজ্জিত গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স এবং কমান্ডোদের জন্য বিশেষ যান। পুরো কনভয়টি এমনভাবে সাজানো থাকে যাতে যে কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত মোকাবিলা করা সম্ভব হয়।

পরিবেশ ও অর্থনীতির ওপর প্রভাব

এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রধানমন্ত্রীর সফরকালীন জ্বালানি খরচ ও কার্বন নিঃসরণ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে গ্রিন এনার্জির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার যে ডাক প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন, এটি তারই একটি বাস্তবমুখী পদক্ষেপ। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর ব্যক্তির কনভয়ে বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার শুরু হলে সাধারণ মানুষের মধ্যেও ইভি ব্যবহারের আগ্রহ বাড়বে। যদিও গাড়ির সংখ্যা কমানোর ফলে নিরাপত্তা প্রোটোকলে কোনো আপস করা হবে কি না, তা নিয়ে কঠোর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাগুলো।

পরিবর্তিত কাঠামোর রূপরেখা

মোদীর কনভয়ের শুরুতে থাকা পাইলট কার থেকে শুরু করে মাঝের বিশেষ নিরাপত্তা বলয় এবং শেষে থাকা সমন্বয় রক্ষাকারী গাড়ি—প্রতিটি ধাপেই কাটছাঁট করা হতে পারে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা অটুট রেখেই কীভাবে কম সংখ্যক গাড়িতে কাজ চালানো যায়, তার একটি নতুন ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করা হচ্ছে। এর ফলে ভিভিআইপি চলাচলের সময় যানজটের সমস্যাও কিছুটা লাঘব হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে এই পরিবর্তনের পর বহরের মূল নিরাপত্তা ও বিশেষ জ্যামার যানের প্রযুক্তিগত সমন্বয় বজায় রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *