মালদায় ভোটের আগে বড় বিপর্যয়, এক পঞ্চায়েতেই ভোটাধিকার হারালেন ৩৭০০ মানুষ

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বড়সড় জটিলতা তৈরি হয়েছে মালদার নির্বাচনী মানচিত্রে। পুরাতন মালদা ব্লকের মহিষবাথানি গ্রাম পঞ্চায়েতে ভোটার তালিকা সংশোধনের (SIR) প্রক্রিয়ার পর এক ধাক্কায় প্রায় চার হাজার নাম বাদ যাওয়ায় রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ২৭ হাজার ভোটারের এই পঞ্চায়েতে ৩৭০০ জনের নাম বাদ পড়া নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

গণহারে নাম বাদ পড়ার নেপথ্যে SIR প্রক্রিয়া

নির্বাচন কমিশনের SIR বা বিশেষ তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই মহিষবাথানি গ্রামে ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছিল। সম্প্রতি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হতেই দেখা যায়, বিশাল সংখ্যক মানুষের নাম তালিকা থেকে মুছে ফেলা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রের খবর, ২৩ নম্বর বুথেই ৪২৮ জনের নাম কাটা গিয়েছে। একইভাবে কদমতলি, রাহুতগ্রাম, বালুয়াটোলা ও শুখাবাথানের মতো গ্রামগুলোতেও প্রতিটি বুথ থেকে গড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ জনের নাম বাদ পড়েছে।

নির্বাচনী উৎসবের রং ফিকে

সাধারণত ভোটের সময় মালদার এই গ্রামগুলোতে উৎসবের মেজাজ থাকে। পার্টি অফিস খোলা, দেওয়াল লিখন আর প্রচারের ঢক্কানিনাদে এলাকা সরগরম থাকলেও এবার ছবিটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। নাম বাদ পড়া বাসিন্দাদের অনেকেরই দাবি, তাঁরা প্রথম দফার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না। কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী অ্যাপিলেট ট্রাইবুনালে আবেদনের সুযোগ থাকলেও, তা দীর্ঘসাপেক্ষ এবং সাধারণ মানুষের বড় অংশই এই আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে ধোঁয়াশায় রয়েছেন।

রাজনৈতিক চাপানউতোর ও অভিযোগের তির

এই গণ-ছাঁটাইকে কেন্দ্র করে মালদার রাজনৈতিক মহলে উত্তাপ বাড়ছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বিশ্লেষণ ও প্রতিক্রিয়া নিচে দেওয়া হলো:

  • কংগ্রেসের অভিযোগ: কংগ্রেস প্রার্থী ভূপেন্দ্রনাথ হালদারের দাবি, এটি একটি সুপরিকল্পিত চক্রান্ত। এভাবে হাজার হাজার মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া গণতন্ত্রের জন্য অশুভ ইঙ্গিত।
  • তৃণমূল কংগ্রেসের অবস্থান: শাসক দল তৃণমূলের পক্ষ থেকেও নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করা হয়েছে। তাদের মতে, নাম বাদ পড়ার ফলে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
  • বিজেপির প্রতিক্রিয়া: বিজেপি প্রার্থী অবশ্য কমিশনের পক্ষেই সওয়াল করেছেন। তাদের মতে, কোনো বৈধ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়নি। পুরো প্রক্রিয়াই নিয়ম মেনে হয়েছে।

সাম্প্রদায়িক ও সামাজিক প্রভাব

রাহুতগ্রামের মতো সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে বাসিন্দাদের অভিযোগ, একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মানুষের নামই তালিকায় বেশি বাদ পড়েছে। নাম বাদ যাওয়া ব্যক্তিদের ভোটার কার্ডের ভবিষ্যৎ কী হবে এবং পরবর্তী ধাপে তাঁরা কীভাবে নাগরিক অধিকার ফিরে পাবেন, তা নিয়ে কোনো স্পষ্ট নির্দেশনা না থাকায় এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।

একঝলকে

  • স্থান: মহিষবাথানি গ্রাম পঞ্চায়েত, পুরাতন মালদা।
  • মোট ভোটার: প্রায় ২৭,০০০।
  • বাদ পড়া ভোটার: ৩৭০০ জন।
  • প্রভাবিত বুথ: ২৩ নম্বর বুথসহ কদমতলি ও রাহুতগ্রামের একাধিক বুথ।
  • বর্তমান পরিস্থিতি: প্রথম দফার ভোটে অংশ নিতে পারবেন না নাম বাদ যাওয়া নাগরিকরা।
  • রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া: ষড়যন্ত্রের অভিযোগে সরব কংগ্রেস ও তৃণমূল, কমিশনের পাশে বিজেপি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *