মমতা-অধীর দু’জনকেই হারিয়েছি! ২০ থেকে ৯-এ নামল তৃণমূল, মুর্শিদাবাদে নিজের ‘ক্যারিশমা’ দেখালেন হুমায়ুন

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মুর্শিদাবাদ জেলার চিরাচরিত রাজনৈতিক সমীকরণ পুরোপুরি ওলটপালট হয়ে গিয়েছে। বাম আমলের কংগ্রেসের গড় এবং পরবর্তীতে তৃণমূলের দুর্গে এবার বড়সড় থাবা বসিয়েছে বিজেপি। জেলাজুড়ে তৃণমূলের আসন সংখ্যা ২০ থেকে এক লাফে ৯-এ নেমে এলেও, বিজেপির আসন সংখ্যা ২ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮-এ। আর এই অভাবনীয় পরিবর্তনের পেছনে নিজের ‘চেকমেট’ চালকেই বড় কারণ হিসেবে দাবি করেছেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর।

তৃণমূল ত্যাগ করে নতুন দল গড়া হুমায়ুন কবীর এবার রেজিনগর ও নওদা—দুই আসনেই বড় ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন। নির্বাচনে বিজেপির এই উত্থানকে নিজের কৌশলের ‘পরোক্ষ সাফল্য’ হিসেবে বর্ণনা করে হুমায়ুন জানান, শাসক দলের বঞ্চনা ও অপমানের জবাব দিতেই তিনি তৃণমূলকে হারানোর জেদ নিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, গত নির্বাচনে তিনিই তৃণমূলকে ২০টি আসন এনে দিয়েছিলেন, কিন্তু এবার তাঁর পাল্টা চালে সেই সংখ্যা অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে।

পাল্টা আক্রমণে বিজেপি ও ব্যক্তিগত লড়াই

হুমায়ুন কবীর বিজেপির জয়ে নিজের কৃতিত্ব দাবি করলেও তা সপাটে প্রত্যাখ্যান করেছে বিজেপি জেলা নেতৃত্ব। মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সৌমেন মণ্ডল স্পষ্ট জানিয়েছেন, আদর্শগতভাবে হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে তাঁদের কোনো মিল নেই এবং তাঁর কোনো সমর্থনের ওপর বিজেপি নির্ভরশীল নয়। অন্যদিকে, হুমায়ুন তাঁর এই লড়াইকে ব্যক্তিকেন্দ্রিক জেদ হিসেবেই দেখছেন। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল সরকার তাঁর পরিবার, এমনকি সাত বছরের নাতনির বিরুদ্ধেও আইনি পদক্ষেপ নিয়ে তাঁকে দমানোর চেষ্টা করেছিল, যা শেষ পর্যন্ত তৃণমূলের বিরুদ্ধেই বুমেরাং হয়েছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও রাজনৈতিক প্রভাব

এই ফলাফল জেলার রাজনীতিতে হুমায়ুন কবীরের প্রভাবকে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করেছে। নিজেকে রাজনৈতিক ‘ক্যারিশমাটিক’ নেতা হিসেবে দাবি করে হুমায়ুন জানিয়েছেন, লোকসভা ভোটে অধীর চৌধুরী এবং বিধানসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানোর যে দায়িত্ব তিনি নিয়েছিলেন, তা সফল হয়েছে। ভবিষ্যতে তিনি বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পরিকল্পনা করছেন এবং পঞ্চায়েত নির্বাচনেও নিজের দলের প্রভাব বিস্তারে আত্মবিশ্বাসী।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হুমায়ুন কবীরের মতো নেতার ভোট কাটাকাটি এবং স্থানীয় স্তরে তৃণমূল বিরোধী জনমত সংগঠিত হওয়ায় বিজেপির পক্ষে আসন জেতা সহজ হয়েছে। এই মেরুকরণ ও ত্রিভুজ লড়াইয়ের ফলে মুর্শিদাবাদের দীর্ঘদিনের একক আধিপত্যের রাজনীতিতে এক নতুন অস্থিরতা ও পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, যার প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *