মমতার তোপ আয়কর দপ্তরে!
নির্বাচনী হিংসার আশঙ্কা, তৃণমূল এজেন্টদের সতর্ক থাকতে নির্দেশ মমতার; কেন্দ্রীয় এজেন্সির অপব্যবহারের অভিযোগ
বারুইপুর, পশ্চিমবঙ্গ: পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক লড়াই ক্রমশ উত্তপ্ত হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন বারুইপুরের এক জনসভা থেকে তৃণমূল কর্মীদের সতর্ক করে বলেছেন, বিরোধী পক্ষ, বিশেষত বিজেপি, তৃণমূলের পোলিং এজেন্টদের লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। প্রলোভন বা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে এজেন্টদের ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি দলীয় কর্মীদের অপরিচিত কারো দেওয়া পানীয় বা খাবার গ্রহণ না করার পরামর্শ দেন। মুখ্যমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন যে, রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়ে বিজেপি এখন অগণতান্ত্রিক পথ বেছে নিচ্ছে।
এদিন তিনি কেন্দ্রীয় নির্বাচনকালীন সংস্থাগুলির অতিসক্রিয়তা নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেন। সম্প্রতি তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিস কুমারের বাড়িতে আয়কর হানার প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী আয়কর দপ্তরকে “মোদি সরকারের তোতা পাখি” বলে অভিহিত করেন। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি টাকার ‘হুন্ডি’ নিয়ে ঘুরছে এবং ইডি-সিবিআই-এর মতো সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করে বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করছে। তিনি দাবি করেন যে, গণতান্ত্রিক লড়াইয়ে ব্যর্থ হয়েই গেরুয়া শিবির কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে।
মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বদলি এবং কমিশনের নিযুক্ত আধিকারিকদের ভূমিকা নিয়ে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি একটি গুরুতর অভিযোগও তুলে বলেন যে, ভোটার তালিকা থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। তাঁর দাবি, সুপ্রিম কোর্টে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর যে ৩২ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল, চক্রান্ত করে সেগুলিও মুছে ফেলা হচ্ছে। এই ‘অদৃশ্য’ হস্তক্ষেপে্র বিরুদ্ধে তিনি দলীয় কর্মীদের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।