মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের অবসান কি তবে নিশ্চিত?
দীর্ঘ সাড়ে তিন মাসের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর লেবানন সংকট নিরসনে ইজরায়েল ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতায় বড়সড় অগ্রগতির বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ইরান আলোচনার টেবিলে বসতে সম্মত হয়েছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ আলোচনার মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তবে এই সমঝোতা অবশ্যই সম্মানজনক হতে হবে। গত ২ মার্চ শুরু হওয়া এই সংঘর্ষে লেবাননে এখন পর্যন্ত ৩,৭৮৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১১,৬৯৯ জন আহত হয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের হস্তক্ষেপে ইজরায়েল ও ইরান উভয় দেশকেই নতুন করে হামলা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং বর্তমানে একটি শান্তিচুক্তির খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে, যার ভিত্তিতে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে।
প্রস্তাবিত এই শান্তিচুক্তিতে হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত রাখা, ইরানের ওপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বাজেয়াপ্ত ২৫ বিলিয়ন ডলার ফেরত দেওয়ার বিনিময়ে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের শর্ত রাখা হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, ইরান কোনো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বা পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না এবং তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পর্যবেক্ষণে অসামরিক পর্যায়ে পরিচালনা করতে হবে। এছাড়া, ইরানকে ভিনদেশে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অর্থ ও অস্ত্র সহায়তা দেওয়া বন্ধ করার শর্ত দেওয়া হয়েছে। এই চুক্তি কার্যকর হলে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী সামরিক উত্তেজনার অবসান ঘটার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে স্থিতিশীলতা আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।