মতুয়াদের অধিকার রক্ষায় রণংদেহি মমতা ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া নিয়ে বিজেপিকে চরম হুঁশিয়ারি
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বাংলার রাজনীতি। সোমবার মতুয়াগড় চাকদহ ও বনগাঁর নির্বাচনী জনসভা থেকে এই ইস্যুতে বিজেপিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিশেষ করে মতুয়া সম্প্রদায়ের নাম বেছে বেছে বাদ দেওয়ার অভিযোগে তিনি সাফ জানিয়েছেন, মতুয়াদের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেললে তিনি অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবেন না।
মতুয়াগড়ে মমতার হুঁশিয়ারি
এদিনের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় এজেন্সির মাধ্যমে ষড়যন্ত্র করে ভোটার তালিকা থেকে বেছে বেছে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, “মতুয়াদের অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে আমার চেয়ে ভয়ঙ্কর কেউ হবে না।” মুখ্যমন্ত্রী নিজেকে এই লড়াইয়ের ‘যোদ্ধা’ হিসেবে অভিহিত করে স্পষ্ট করে দেন যে, বঞ্চিত ভোটারদের অধিকার ফিরিয়ে দিতে তিনি শেষ পর্যন্ত লড়াই করবেন।
মতুয়া ও সংখ্যালঘু এলাকায় লক্ষ্যবদ্ধ ছাঁটাইয়ের অভিযোগ
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক তথ্যে যে ২৭ লক্ষ ১৬ হাজার ৩৯৩ জন ভোটারের নাম বাদ পড়েছে, তার মধ্যে একটি বড় অংশই মতুয়া এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। তাঁর বক্তব্যের মূল পয়েন্টগুলো হলো:
- নির্দিষ্ট জেলা টার্গেট: মালদা, মুর্শিদাবাদ, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদীয়া এবং উত্তর দিনাজপুরে প্রচুর নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
- ষড়যন্ত্রের অভিযোগ: উকুনের মতো বেছে বেছে মতুয়াদের নাম তালিকা থেকে সরানো হয়েছে বলে তাঁর দাবি।
- ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ: বাদ পড়া ভোটারদের নাম পুনরায় তালিকায় তুলতে তৃণমূল কংগ্রেস ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
- ভোটের আগে সক্রিয়তা: ষড়যন্ত্রকারীরা চাইছে ভোটের পরে নাম তুলতে, কিন্তু তৃণমূল চেষ্টা করবে ভোটের আগেই যাতে এই সমস্যার সমাধান হয়।
ঠাকুরবাড়িতে বিভাজন ও কেন্দ্রীয় এজেন্সির ভূমিকা
বিজেপিকে আক্রমণ করে তৃণমূল নেত্রী বলেন, ঠাকুরবাড়ির ভেতরে বিভেদের বীজ পুঁতে রাজনীতির ফায়দা তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে। ইডি-সিবিআই প্রসঙ্গেও সুর চড়িয়ে তিনি বলেন, শুধুমাত্র তৃণমূল করার অপরাধে নেতাকর্মীদের হেনস্থা করা হচ্ছে, অথচ বিজেপির সাথে যুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এমনকি কিছু নির্দিষ্ট মামলার নথির কথা উল্লেখ করে তিনি বিরোধী শিবিরের ‘মুখোশ খুলে দেওয়ার’ হুঁশিয়ারিও দেন।
ভোটারদের প্রতি বার্তা
ভোটার তালিকায় নাম বাদ পড়া নিয়ে মানুষের মধ্যে যে হয়রানি তৈরি হয়েছে, তাকে বিজেপির দেওয়া ‘অসম্মান’ হিসেবে দেখছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই অপমানের বদলা নিতে তিনি জনগণকে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ব্যালটের মাধ্যমে জবাব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সাফ জানিয়েছেন, বাংলায় কোনোভাবেই ডিটেনশন ক্যাম্প করতে দেওয়া হবে না।
একঝলকে
- নাম ছাঁটাই: ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ২৭ লক্ষ ১৬ হাজার ৩৯৩ জনের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
- মূল টার্গেট: মতুয়া ও সংখ্যালঘু প্রধান জেলাগুলোতে সবথেকে বেশি নাম বাদ পড়ার অভিযোগ।
- আইনি পদক্ষেপ: নাম পুনরুদ্ধারের জন্য ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার ঘোষণা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
- রাজনৈতিক অবস্থান: ঠাকুরবাড়িতে বিভাজন এবং ভোটার তালিকায় কারচুপির মাধ্যমে বিজেপি বাংলা দখলের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ।
- হুঁশিয়ারি: মতুয়াদের অধিকার ক্ষুন্ন হলে ‘ভয়ঙ্কর’ রূপ নেওয়ার বার্তা তৃণমূল নেত্রীর।